সিলেটের টিলাগড়ে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রের (সিলেট ইকোপার্ক) ৩৩ পশুপাখির মৃত্যুর বিষয়ে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই ঘটনায় ওই ইকোপার্ক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান তানহা এন্টারপ্রাইজের দায়সারা পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ দায়ী কিনা—তা অনুসন্ধান করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক।
অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল আদেশের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পশুপাখিদের জীবন রক্ষায় সিলেটের টিলাগড়ের সংরক্ষণ কেন্দ্রটির পশু হাসপাতালে পর্যাপ্ত পশু চিকিৎসক, নার্স দিয়ে দ্রুত একটি ইউনিট স্থাপনেরও নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়াও সিলেটের টিলাগড়ে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রের (সিলেট ইকোপার্ক) ৩৩ পশুপাখির জীবন রক্ষায় বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
চার সপ্তাহের মধ্যে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, পশু সম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক, উপ বন সংরক্ষক ও তানহা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দেশের একটি ইংরেজি দৈনিকে ‘সিলেট বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ যেন কনডেম সেল’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনটি সংযুক্ত করে আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক রিট দায়ের করেন। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিলেটের টিলাগড় ইকোপার্ক প্রাণীদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকমাসে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে অন্তত ৩৩টি প্রাণী মারা গেছে।