ঢাকা বারের লিফট দুর্ঘটনা: ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

আদালতলিফট ছিঁড়ে পড়ে আইনজীবীদের আহত হওয়ার ঘটনায় ঢাকা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছেন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসেন আলী খান হাসান। আদালতে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন বাদীপক্ষে শুনানি করেন।
আসামিরা হলেন লিফট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লিড আর্কিটেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলাম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্রকৌশলী এ আর আরিফ, ফরচুন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রোপ্রাইটর প্রকৌশলী এইচ এম আফজাল হোসেন, সিটি ইন্টার ডিউসি অ‌্যান্ড কনস্ট্রাকশনের পার্টনার মো. আব্দুল জলিল ও মোতালেব এবং স্মার্ট পাওয়ার অ‌্যান্ড টেকনোলজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী এমএ কবির সুমন।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম মাসুম জানান, আসামিদের হত্যাচেষ্টা, গুরুতর জখম, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই ঢাকা আইনজীবী সমিতির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রচির সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী লিফট স্থাপন ও কনস্ট্রাকশনের কাজ পায় লিড আর্কিটেক্স লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী গোল্ড স্টার ব্র্যান্ডের ১০ জন ধারণক্ষমতার লিফট দেওয়ার কথা ছিল।কিন্তু মানসম্মত লিফট না দেওয়ায় সেই লিফট ছিঁড়ে পড়ে যায়।
গত মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে লিফট ছিঁড়ে ষষ্ঠ তলা থেকে নিচে পড়ে যায়। এতে লিফটে থাকা যাত্রীরা ৩০ মিনিট আটকা পড়েন। এ ঘটনায় কয়েকজন আইনজীবী গুরুতর আহত হয়। আহতদের প্রথমে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আইনজীবী ক্লিনিক ও পরে ন্যাশনাল মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়। তারা এখনও চিকিৎসাধীন।
৩৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ করে লিফট স্থাপন করা হয়। বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়েও মানসম্মত লিফট না দেওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়।