হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম সাইফুল আলম। অন্যদিকে প্রথম আলো সম্পাদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান।
এর আগে প্রথম আলোর সাময়িকী ‘কিশোর আলোর’ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল কলেজের ছাত্র নাইমুল আবরার রাহাতের (১৫) মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে করা মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। মামলার কার্যক্রম ৬ মাস স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করেন আদালত। এ মামলার অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে করা মতিউর রহমানের আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১৩ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. আতোয়ারের রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।
পরে ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন জানায়। আবেদনটির শুনানি শেষে 'নো অর্ডার' (আদেশ নয়) দেন আদালত। ফলে মতিউর রহমানের ক্ষেত্রে এ মামলার কার্যক্রমের ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বহাল রইলো বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
এর আগে গত ১২ নভেম্বর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ ওই ঘটনায় করা মামলায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানসহ নয়জনের অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৪ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করেন আদালত।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে আদেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন, মতিউর রহমান, কবির বকুল, শুভাশিষ প্রামাণিক শুভ, মুহিতুল আলম পাভেল, শাহ পুরান তুষার, জসিম উদ্দিন তপু, মোশারফ হোসেন, মো. সুমন ও কামরুল হাওলাদার। আসামিদের সবাই জামিনে রয়েছেন। তবে অপর আসামি কিশোর আলো সম্পাদক আনিসুল হককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
পরে ওই অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন মতিউর রহমান।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নাইমুল আবরার রাহাত নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রের মৃত্যু হয়। ওই দিন বিকেলে বিদ্যুতায়িত হওয়ার পর আবরারকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর গত বছর ৬ নভেম্বর নাইমুল আবরারের বাবা মজিবুর রহমান দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক এবং কিশোর আলোর প্রকাশক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়।
এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে নাইমুল আবরারের মৃত্যুতে কিশোর আলো কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।