সড়ক দুর্ঘটনায় অভিনেত্রী আয়েশা আক্তারের (আশা) মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার শামীম আহমেদের মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েই অভিনেত্রী আশার মৃত্যু হয়। আশার পরিবারের অভিযোগ, শামীম বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণেই ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বুধবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৪ জানুয়ারি রাতে শামীমের মোটরসাইকেলে আশা বাড়ি ফিরছিলেন। সে বেপরোয়া গতিতে দুই ট্রাকের মাঝ দিয়ে যাওয়ার সময় সামনের ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এ ঘটনা ঘটে। এতে আশা মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন। এরপর পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি অজ্ঞাত ট্রাক তাকে চাপা দিলে মাথায় জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই আশার মৃত্যু হয়। রাত ২টার দিকে দারুসসালাম টেকনিক্যাল মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামি শামীমের সঙ্গে আশার পরিচয় ছিল। প্রায়ই শামীম তাদের বাসায় যাতায়াত করতেন। আশার পরিবার তাকে বিশ্বাস ও স্নেহ করতো। মাঝে মধ্যে আশার অভিনয়ের কাজে আসা-যাওয়ায় সহযোগিতা করতেন শামীম। ৪ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে বনানী অফিস থেকে বের হওয়ার সময় আশা তার বাবাকে ফোন করে বলেন, ‘আমি কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় আসছি।’ তারপর আবার ফোন করে বলেন, ‘বাড়ির কাজের ব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা হয়েছে। কাজ নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না। আমি শামীম ভাইয়ের সঙ্গে চলে আসবো।’ এ সময় শামীম মুঠোফোনে বলেন, ‘আপনার মেয়ে যেভাবে বলে সেভাবে কাজ করেন, তাহলে ভালো হবে।’ পরে রাত ২টার দিকে শামীম ফোন করে জানান, ‘আশা আর নেই। টেকনিক্যাল মোড়ে একটি অজ্ঞাত ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে আশার মৃত্যু হয়েছে।’
আদালত সূত্র জানায়, বুধবার দারুসসালাম থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক সোহান আহমেদ মোটরসাইকেল চালক শামীম আহমেদকে আদালতে হাজির করেন। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক শামীমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।