মানসিক হাসপাতালে এএসপিকে হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১০ মার্চ

রাজধানীর আদাবরে মানসিক হাসপাতালে কর্মচারীদের মারধরে পুলিশের সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম শিপন হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ১০ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ায় দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মইনুল ইসলামের আদালত প্রতিবেদনের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মনির আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় গত ১০ নভেম্বর নিহতের বাবা ফয়েজ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মো. আনিসুল করিমকে চিকিৎসার জন্য গত ৯ নভেম্বর দুপুরে আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বেলা পৌনে ১২টার দিকে আরিফ মাহমুদ জয় আনিসুলকে ওয়াশরুমে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে হাসপাতালের দোতলায় নিয়ে যান। তখন তার বোন কথা বলতে চাইলে আসামি আরিফ মাহমুদ জয় ও রেদোয়ান সাব্বির বাধা দেয় এবং কলাপসিবল গেট আটকে দেন।

এরপর এজাহারে উল্লেখিতসহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন মো. আনিসুল করিমকে চিকিৎসার নামে দোতলার একটি অবজারভেশন রুমে (বিশেষভাবে তৈরি কক্ষ) নিয়ে যান। আসামিরা এএসপি আনিসুলকে রুমের ফ্লোরে জোরপূর্বক শুইয়ে ৩/৪ জন হাঁটু দিয়ে পিঠের ওপর চেপে বসেন। এ সময় কয়েকজন পিছমোড়া করে ওড়না দিয়ে তার দুই হাত বেঁধে ফেলে। কয়েকজন আসামি কনুই দিয়ে আনিসুলের ঘাড়ের পেছনে ও মাথায় আঘাত করে। একজন মাথার উপরে চেপে বসেন এবং আসামিরা সবাই মিলে তার পিঠ, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্নস্থানে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন।

এরপর দুপুর ১২টার দিকে আনিসুল নিস্তেজ হয়ে পড়ে, যা হাসপাতালে স্থাপিত সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে দৃশ্যমান। নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার পর আসামি আরিফ মাহমুদ জয় নিচে এসে পরিবারের সদস্যদের ইশারায় উপরে যাওয়ার জন্য ডাক দেন। এরপর তার বাবা, ভাই ও বোন অবজারভেশন রুমে গিয়ে আনিসুলকে ফ্লোরে নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পান। অতঃপর তাকে জরুরি ভিত্তিতে একটি প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সে করে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে এএসপি আনিসুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন:
মানসিক হাসপাতালে মারধরে এএসপির মৃত্যুর অভিযোগ
ওয়ার্ডবয়দের মারধর দিয়েই রোগীর চিকিৎসা শুরু!
মাইন্ড এইডকে হাসপাতালের লাইসেন্স দেয় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর!