একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ময়মনসিংহের খলিলুর রহমানসহ ৯ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য ১১ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান ও আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।
এর আগে, ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তবে করোনার কারণে দীর্ঘদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের প্রথম রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন বলেন, ২০১৮ সালের ৪ মার্চ চারটি অভিযোগে ময়মনসিংহের ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছিল ট্রাইব্যুনাল। তবে বিচার চলাকালে দুই আসামির মৃত্যু হয়। এছাড়া গ্রেফতার আছেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের সাধুয়া গ্রামের মো. খলিলুর রহমান মীর (৬২), একই গ্রামের মো. সামসুজ্জামান ওরফে আবুল কালাম (৬৫), একই গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ (৬২), মো. রইছ উদ্দিন আজাদী ওরফে আক্কেল আলী (৭৪)। আসামি আব্দুল লতিফ স্বেচ্ছায় ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। বিচার চলাকালে মো. আব্দুল মালেক আকন্দ ওরফে আবুল হোসেন ওরফে আবুল মেম্বার (৬৮) ও নুরুল আমীন শাজাহান মারা যান।
এছাড়াও পলাতক আছেন এএফএম ফায়জুল্লাহ, মো. আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল, সিরাজুল ইসলাম ও মো. আলীম উদ্দিন খান।
আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের চারটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে চার জনকে হত্যা, ৯ জনকে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের সাধুয়া গ্রাম ও টাঙ্গাব ইউনিয়নের রৌহা গ্রাম এলাকায় তারা এসব অপরাধ করেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।