বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়তে না পেরে রাজধানীর কদমতলীর পূর্ব শনির আখড়ায় মা-মেয়েসহ তিন জনকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান এ তথ্য জানান।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শনির আখড়ায় একটি বাড়িতে ঢুকে রুহুল কুদ্দুস বাবু, মাসুদ কিবরিয়ার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার, তার মেয়ে মাহামুদা মেহেরিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে পরান। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন রুহুল কুদ্দুস বাবুর বড় বোন বিউটি বেগম।
সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জের সানারপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে পরানকে গ্রেফতার করে র্যাব-১০ এর সদস্যরা।
র্যাব-১০ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান বলেন, রাজধানীর শনির আখড়া এলাকায় ৭/৮ বছর আগে একই রুমে থাকতেন আহত রুহুল কুদ্দুস বাবু ও গ্রেফতার জাহাঙ্গীর আলম ওরফে পরান। সে সময় পাশের ফ্ল্যাটের মাে. মাসুদ কিবরিয়ার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারের (৩৫) সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চায় পরান। তবে এতে বাধা দেন রুহুল কুদ্দুস বাবু। এ কারণে পরানকে ওই বাড়ি থেকে বের করে দেন বাড়ির মালিক। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে পরান বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে ইয়াসমিন আক্তার ও তার পরিবারের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন ও বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করতেন। এতে আবারও বাধা দেন রুহুল কুদ্দুস বাবু। এর জের ধরে পরান রবিবার সন্ধ্যায় পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতিসহ বাবুর বাসায় যান।
র্যাব-১০ এর অধিনায়ক বলেন, রুহুল কুদ্দুস বাবু দরজা খুলতেই পরান বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে এলােপাতাড়ি কুপিয়ে বাবুর মুখে, কানে, চোখের উপরে, মাথায়, ঘাড়ে ও ডান হাতের তালুতে গুরুতর জখম করে। বাবুর চিৎকার শুনে ইয়াসমিন আক্তার ও তার মেয়ে মাহামুদা মেহেরিন বাবুকে বাঁচাতে এলে পরান প্রথমে মেয়ে মাহামুদাকে তার ডান হাতে ও পরে ইয়াসমিন আক্তারের মাথায় গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।
এ সময় প্রতিবেশীরা গুরুতর জখম অবস্থায় তিন জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।