দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং আইনে দায়ের করা মামলায় ডিআইজি প্রিজনস পার্থ গোপাল বণিকে বিরুদ্ধে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের আদালতে রেকর্ডিং অফিসার আব্দুল ওয়াদুদ সাক্ষ্য দেন। তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন। জেরা শেষ হওয়ায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নতুন তারিখ ধার্য করেন আদালত।
এ মামলায় এ পর্যন্ত দুই জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ৪ নভেম্বর পার্থ বণিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এবং একই বছরের ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে ২৯ অক্টোবর অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য করে মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এ বদলির আদেশ দেন। এর আগে গত বছরের ২৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন।
২০১৯ সালের ২৮ জুলাই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পার্থ গোপাল বণিককে জিজ্ঞাসাবাদ করার এক পর্যায়ে তার বাসায় অভিযানে যায় দুদক। ওইদিন বিকালে ধানমন্ডির ভূতের গলিতে পার্থ গোপালের ফ্ল্যাট থেকে নগদ ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করে দুদক। এরপর তাকে আটক করা হয়। পরদিন ২৯ জুলাই তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪ (২) ধারায় দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলা দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, বরখাস্ত কারা উপমহাপরিদর্শক পার্থ গোপাল বণিক সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে ৮০ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেন। এই টাকা গোপন করে, তার নামে কোনও ব্যাংক হিসাবে জমা না রেখে, বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নিজ বাসস্থানে লুকিয়ে রেখে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।