ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দ্রুত টেস্ট রিপোর্ট করিয়ে দেওয়ার কথা বলে রোগীর থেকে টাকা আদায়কালে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন দুই কর্মচারী। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) আটককৃতদের পুলিশে দেওয়া হয়।
তারা হাসপাতালের স্টাফ না হলেও এক থেকে দেড় বছর ধরে ‘স্পেশাল’ ডিউটি করছে। আটককৃতদের একজনের নাম সজিব (২১), আরেক জনের নাম রিয়াজ (১৭)। তারা দুই জন সম্পর্কে আপন ভাই। তাদের বাবার নাম সাইফুল, তাদের বাড়ি গোপালগঞ্জের মিজরায়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার শাওন নামে একজন রোগী হাসপাতালে এমআরআই করান। বুধবার সকালে তিনি রিপোর্ট পাওয়ার জন্য মেডিক্যালের পুরাতন ভবনের এক্সরে বিভাগের ১ নম্বর রুমে ফ্লিম জমা দিতে যান। এ সময় ফ্লিম জমা নেওয়ার দায়িত্বে বসে থাকা সজিব (১৯) জানান- সাধারণত রিপোর্ট পেতে চাইলে এক সপ্তাহ দেরি হবে। একটু খরচ করলে দুপুর দেড়টার মধ্যেই রিপোর্ট পাওয়া যাবে।
ওই ব্যক্তির কাছে টাকা না থাকায় তিনি পরে টাকা দেওয়ার কথা বলে ফ্লিম রেখে টাকা আনতে যান। বাইরে গিয়ে বিষয়টি ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হককে জানালে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেন। পরিচালকের নির্দেশে টাকা দেওয়ার সময় হাতেনাতে দুই জনকে আটক করে। আটকের পর তাদের কাছ থেকে সেই টাকা জব্দ করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- টাকা নিয়ে কাজ করানোর জন্য ঢামেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। বেড পাওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজেই এরা টাকা নিয়ে থাকনে। টাকা দিলে তারা দ্রুত কাজ করে দেয়। টাকা না দিলে দিনে পর দিন ঘুরতে হয়। সহজে কাজ হয় না।
যারা টাকা নেন-এরা হাসপাতালের স্টাফ নয় বলে জানিয়েছেন পরিচালকের দফতরের একাধিক কর্মকর্তা। তারা জানান, কতিপয় অসাধু স্টাফ অন্যদের ‘স্পেশাল ডিউটিতে’ ঢুকিয়ে তাদের দিয়ে এই কাজ করান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যারা টাকা নেন তারা আমাদের লোক না। এসে টাকা নিয়ে চলে যায়, যেখানে যেখানে ভাগ দেওয়ার সেখানে সেখানে দিয়ে দেয়। টাকার লেনদেনগুলো হাসপাতালের লোক করে না। অন্য লোক দিয়ে করায়। তাই এদের ধরা খবু সহজ হয় না।’
মঙ্গলবার যে দুই জনকে ধরা হয়েছে-তাদের বিষয়ে ঢামেকের একটি সূত্র জানিয়েছে, এরা মেডিক্যালের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. নোমান চৌধুরী ও ডা. রবীন্দ্র নাথ সরকারের রেফারেন্সে স্পেশাল ডিউট করে। ওই দুই জনের বাসায় সজিব-রিয়াজের অভিভাবকরা কাজ করেন।
এদের হাতেনাতে আটকের পর অভিযোগকারী ব্যক্তি কেন এদের টাকা দিলো জানতে চান নোমান চৌধুরী। তিনি অনেকটা আটক ব্যক্তিদের পক্ষে অবস্থান নেন।
অভিযোগকারী শাওন বলেন, ‘আর্জেন্ট রিপোর্ট নিতে চাইলে ৩০০ টাকা চাওয়া হয়।’ তিনি জানান, শুধু তার কাছ থেকে নয়, তারই সামনে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়।
এই ব্যাপারে ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক বলেন, যারা এধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।