এমপি কামরুল ইসলামের মামলায় ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামরাঙ্গীর চর থানার  পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গত ২২ ফেব্রুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ)  সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখা থেকে  বিষয়টি  নিশ্চিত হওয়া গেছে।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন— আলী আহমেদ,ড. কনক সারোয়ার (সৈয়দ মো. সারোয়ার ই আলম), জামাল দেওয়ান ও আলম বাদশা।

অপর আসামি জুনায়েদ হোসেন ওরফে জুবায়েরের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতির জন্য সুপারিশ করেন  এই তদন্ত কর্মকর্তা।

কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে  গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর থানায় মামলাটি করেন।

জানা যায়, কামরাঙ্গীর চরের খলিফাবাগ ও রসুলপুর এলাকায় কেবল নেটওয়ার্কের লাইন সংযোগ রয়েছে ‘ঢাকা টোটাল কেবল নেটওয়ার্কের’। প্রতিষ্ঠানটির পাওনা টাকা আটকে রাখেন ফিড অপারেটর আলী আহমদ। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এমপি অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের কাছে নালিশ দেন ‘ঢাকা টোটাল কেবল নেটওয়ার্কের’ মালিক। তার নালিশের পরিপ্রেক্ষিতে আলী আহমদকে ফোন করে ‘কেন টাকা দিচ্ছেন না’ তা জানতে চান এমপি কামরুল ইসলাম। এসময় আলী আহমদ এই কথোপকথন রেকর্ড করেন এবং তা চাঁদাবাজি হিসেবে উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনলাইনে ব্যাপক অপপ্রচার চালান।কামরুলের বিরুদ্ধে প্রচারণায় অডিও রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রকাশ করেন দেশত্যাগী  সাংবাদিক কনক সারোয়ার ও বিএনপির জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্পাদক একেএম ওয়াহিদুজ্জামান। তবে মামলায় ওয়াহিদুজ্জামানকে আসামি করা হয়নি।

কামরাঙ্গীর চর থানায় দায়ের করা মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার বিভিন্ন ঘটনা, অভিযোগের বিষয়ে তাকে (এমপি কামরুল) সালিশ করতে হয়। সালিশে নিষ্পত্তির কারণে বিগত ১২ বছরে শত শত ঘটনা-বিষয় মামলা-মোকদ্দমায় গড়ায়নি।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, করোনাকালে সামনা-সামনি বসে বিবাদ নিষ্পত্তি সম্ভব নয় বিধায় সম্প্রতি আসা অভিযোগটি তিনি টেলিফোনে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন। কিন্তু আলী আহমদ অসৎ উদ্দেশ্যে এই কথোপকথন রেকর্ড করে জনৈক কনক সারোয়ারকে সরবরাহ করেন। কনক সারোয়ার সেটি ইউটিউবে ভাইরাল করেন।