শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে আত্মহত্যা করা কর্মচারী আজিজুল ইসলাম মিলনের কয়েক মাসের বেতন বকেয়া ছিল এবং তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন বলে জানিয়েছে তার সহকর্মীরা। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কোনও যোগাযোগ ছিল না। শনিবার (২০ মার্চ) মিলনের সহকর্মী ও পরিবারের সঙ্গে আলাপ করে এই তথ্য জানা গেছে।
ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসেন মিলনের বোন সৈয়দাতুন নেসা আঁখি। তিনি জানান, তাদের বাবা-মা বেঁচে নেই। ছোটবেলায় মিলন পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়, তখন থেকেই চলাফেরায় অক্ষম হয়ে পড়ে সে। সব সময় হুইল চেয়ারে করে চলাফেরা করতে হতো তাকে। মিলনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
মিলনের সহকর্মীরা জানান, বছরখানেক হলো দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে রিসিপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতো সে। শারীরিক প্রতিবন্ধী কোটায় বার্ন ইউনিটে চাকরি পায় মিলন। তবে কী কারণে বাথরুমে গিয়ে শরীরে আগুন দিয়েছে সে বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই। তবে, মিলন কিছুটা ঋণগ্রস্ত ছিল। কর্মস্থলে তার কয়েক মাসের বেতন বকেয়া ছিল।
তবে বেতন-ভাতার দাবিতে সে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে কিনা সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরইমধ্যে সিআইডির কর্মকর্তারা আলামত সংগ্রহ করেছেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, হাসপাতালে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। তবে বিস্তারিত ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৯ মার্চ) রাতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের বাথরুমে গিয়ে শরীরে আগুন দেয় আজিজুল ইসলাম মিলন। পরবর্তীতে তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২০ মার্চ) শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন- নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করলেন বার্ন ইনস্টিটিউটের কর্মচারী!