মোদিবিরোধী আন্দোলন থেকে আটকের পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আনা এক আন্দোলনকারীকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে তার সহকর্মীরা। এসময় এক পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) বিকাল ৩টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আন্দোলনকারীর আবুল কালাম (৩৫) নামে ওই সহকর্মীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এই সময় মারধরের শিকার হন পুলিশ সদস্য রায়হান। তিনি পল্টন থানায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন, তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল দুপুরে পল্টন থানাধীন মুক্তাঙ্গনে মোদিবিরোধী বিক্ষোভ শুরু করে আলোচিত ডাকসু নেতা নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ। তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কুশপুত্তলিকা দাহ করতে চাইলে পুলিশ তাদের বাঁধা দেয়। এসময় পুলিশের সঙ্গে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই সময় পুলিশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে। পরে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে মতিঝিলের শাপলা চত্বরেরর দিকে যেতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে আরেক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় মিছিল থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটককৃতদের মধ্যে আবুল কালামের অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নেওয়া হয়। পল্টন থানার এসআই রায়হান তাকে চিকৎসা দিতে নিয়ে যান। আবুল কালামকে ঢাকা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগের সামনে নেওয়ার পর সেখানে থাকা তার সহকর্মীরা পুলিশ কর্মকর্তা এসআই রায়হানকে মারধর করে কালামকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। পরে এসআই রায়হানকে ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নিয়ে চিকিৎসা করায়।
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের হামলায় সাত পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এই ঘটনায় একাধিক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’