আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সংসদ সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এ সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ আদালতের উভয় বিভাগের কোনও বেঞ্চে বিচারিক কার্যক্রম চলবে না।
এর আগে, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এএম আমিন উদ্দিন সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানান।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বারের সভপতি মতিন খসরুর প্রয়াণে বিচারকাজ বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। কারণ উনি বার কাউন্সিলের কার্যকরী কমিটির একজন সদস্য। বারের সভাপতি। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিচার কাজ বন্ধ রাখা দরকার।
জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপিল বিভাগের সব বিচারপতির সঙ্গে এ বিষয়ে আমি আগেই আলোচনা করেছি। সবাই একবাক্যে বলেছেন কোর্ট বন্ধ রাখার জন্য। কোর্ট বসবে না।
এ সময় বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এমন সিদ্ধান্তের জন্য আইনজীবীদের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, মতিন খসরু সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ছিলেন। এটা অনেক সম্মানের। শেরে বাংলা একে ফজলুল হকও এই বারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
আবদুল মতিন খসরু গত ১৫ মার্চ সংসদ সচিবালয়ে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা জমা দেন। ১৬ মার্চ সকালে তার রিপোর্টে করোনা পজিটিভ আসে। ওইদিনই তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি। পরে বুধবার বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মতিন খসরু ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তিনি ১৯৫০ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি।
আরও পড়ুন
সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় মতিন খসরুর দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন
আবদুল মতিন খসরু আর নেই
মতিন খসরুর দাফন হবে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়