লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে। ডিউটি করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছে পুলিশ সদস্যরা। বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।
এমনই একজন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার কামরুল ইসলাম। ১৪ এপ্রিল ১৫ এপ্রিল সশরীরে ওয়ারী ডিভিশনে ডিউটি করে (১৫ এপ্রিল) রাতে নিজের প্রোফাইল থেকে অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।
‘ ১৪ ও ১৫ তারিখ ১ম ও ২য় রোজা। দুদিনই ভোর ৬টা থেকে বিকাল প্রায় ৬টা পর্যন্ত প্রখর রোদে সশরীরে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় সরকার নির্দেশিত সপ্তাহব্যাপী স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নের উদ্দেশে দায়িত্ব পালন করেছি। বিচিত্র অভিজ্ঞতা।
মধ্যবিত্ত আর দরিদ্ররা জীবিকার প্রয়োজনে কোনও বিধিনিষেধ মানতে চায় না। রাস্তা খালি পেয়ে প্রেমিক জুটিগুলা বিভিন্ন বাহানায় মোটর সাইকেলে জোড়ায় জোড়ায় ঘুরতে চায়।
সবচেয়ে বড় সমস্যা বেশি শিক্ষিত, বড় বড় সরকারি, বেসরকারি অফিসার আর বড় বড় গাড়ির মালিক শিল্পপতিরা, উনারা গাড়ির গ্লাসই খুলতে চায় না। এরকম অনেকে পুলিশকে ঝাড়ি দেওয়া থেকে শুরু করে ভিন্ন ভাষার বডি ল্যাংগুয়েজ দেখাতেও চায়। এক ভদ্রলোক সার্ভিং অফিসার পরিচয় দিয়ে উচ্চবাচ্যও করেছে। জিজ্ঞেস করলাম এই গাড়ি সরকারি না, কার এটা? (উনি যে পরিচয় দিয়েছেন, গাড়ি ব্যবহার করছেন অন্তত ৩ ধাপ ওপরের অফিসারের)। এরপর উনি টোন-ডাউন করেন। বলেন, আমি অবসরপ্রাপ্ত, গাড়ি অমুকের, আইডি কার্ড দেখালেন একটা টিভি চ্যানেলের।
শিশু হাসপাতালের এক ডাক্তার খুব উসকানিমূলক আচরণ করলেন। উনার গাড়ি কেন সিরিয়ালে পড়েছে। যদি সিরিয়াল ৫ মিনিটে শেষ না হয়, উনি অফিসে যাবেন না, এই দায় পুলিশের। আইডি দেখতে চাইলাম। না দেখিয়েই কাকে যেন ফোন করে বলতে শুরু করলেন, অনেক ঝামেলা করছে পুলিশ, অফিসে হয়তো আসা হবে না। কল শেষ না হতেই উনার গাড়ি এসে গেল। চলে গেলেন।
একটা বড় জীপ গাড়ি। বললো সিটি গ্রুপের। আইডি চাইলাম, দেখাবে না। বড় জীপ, বলল ফকির গ্রুপের, আইডি নাই। দেখানোর মতো কিছুই নাই। একটা আইপি টিভির গাড়ি, বললো ড্রাইভিং লাইসেন্স নাই, গাড়ির কোনও কাগজ নাই।
কয়েকটা গাড়িতে ২/৩ টা মন্ত্রণালয়ের স্টিকার দেওয়া। পাওয়া গেল ব্যক্তিগত গাড়ি। পহেলা বৈশাখে ছুটির দিনে ব্যাংকে যাচ্ছে! একলোক নারায়ণগঞ্জ থেকে উত্তরা যাচ্ছে ভাইয়ের বাসায় ইফতার করতে, যাবেই। ব্যাপক অভিজ্ঞতা।’