বিটকয়েন ব্যবসার মূলহোতাসহ ১২ জন রিমান্ডে

বাংলাদেশে অবৈধ বিটকয়েন ব্যবসার কথিত মূলহোতা ইসমাইল হোসেন সুমন ওরফে কয়েন সুমনসহ ১২ জনের প্রত্যেকের ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৪ মে)  ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঈনুল ইসমলামের আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইসমাইল হোসেন সুমন ছাড়াও রিমান্ড-প্রাপ্ত  অপর আসামিরা হলেন—  আবুল বাশার রুবেল (২৮), আরমান পিয়াস (৩১), রায়হান আলম সিদ্দিকি (২৮), মো. জোবায়ের (১৮), মেহেদী হাসান রাহাত (২৪), মেহেদী হাসান (১৯), রাকিবুল হাসান (২৩), রাকিবুল ইসলাম (২২), সোলাইমান ইসলাম (২১), মো. জাকারিয়া (১৮), আরাফাত হোসেন (২২)।

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এই ১২ আসামিকে আদালতে হাজির করেন। এরপর তাদের প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত প্রত্যেকের ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত রবিবার (২ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকার বেসিক বিজ মার্কেটিং নামের প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় র‌্যাব-১ এর একটি দল। সেখান থেকে বাংলাদেশে অবৈধ বিট কয়েন ব্যবসার মূলহোতা ও অনলাইনে প্রতারণার অভিযোগে ইসমাইল হোসেন সুমন ওরফে কয়েন সুমনসহ ১২ জনকে আটক করা হয়।

র‌্যাব জানায়, ইসমাইল হোসেন সুমন ওরফে কয়েন সুমন (৩২) প্রথমে ছোট্ট একটি দোকানে কম্পিউটার বসিয়ে বাচ্চাদের কাপড় ও খেলনার ব্যবসা শুরু করেন। সেখান থেকে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন বেসিক বিজ মার্কেটিং নামের প্রতিষ্ঠান। আউটসোর্সিং মার্কেটিংয়ের এই প্রতিষ্ঠানের আড়ালেই চলছিল তার অবৈধ ‘বিট কয়েন’ ব্যবসা। বাংলাদেশে অবৈধ ‘বিট কয়েন’ ব্যবসার মূলহোতা ইসমাইল হোসেন সুমন ওরফে কয়েন সুমনের রয়েছে একাধিক ভার্চুয়াল ওয়ালেট। যেখানে মজুত রয়েছে লক্ষাধিক ডলার। শুধু তা-ই নয়, বিট কয়েন ব্যবসার মাধ্যমে গড়েছেন ফ্ল্যাট, প্লট, সুপার শপসহ নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অবশেষে এই চক্রটিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব আরও জানায়, শুরুতে একটি ছোট অফিস থাকলেও তা বড় হয়, বাড্ডায় ৩টি ফ্লোরে ৩২ জন কর্মচারী নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটি ৩টি শিফটে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। ভার্চুয়াল ওয়ালেটের মাধ্যমে অবৈধ ও প্রতারণামূলক ব্যবসা বিট কয়েনের মাধ্যমে সুমন বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকায় রয়েছে ২টি ফ্ল্যাট, প্লট, সুপার শপের ব্যবসা। এছাড়াও একাধিক ভার্চুয়াল ওয়ালেটে এক বছরে তিনি বিট কয়েনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ১২ থেকে ১৫ লাখ ডলার লেনদেন করেছেন।

গ্রেফতার ইসমাইল হোসেন সুমন বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ই-মার্কেটিং সাইটে আকর্ষণীয় মূল্যে বিজ্ঞাপন প্রদান করতেন। পরবর্তীতে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করতেন। কেউ যদি তার পণ্য ক্রয় করতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতেন, তা হ্যাক করে টাকা আত্মসাৎ করতেন এই সুমন।