রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান ও তার স্ত্রী, ছেলেমেয়েসহ পাঁচ জনের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল থেকে সম্প্রতি বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে চিঠি দিয়ে তাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে।
ব্যাংক হিসাব তলব করা অন্যদের মধ্যে আছেন-রাবির সাবেক উপাচার্য এম আব্দুস সোবহানের স্ত্রী মনোয়ারা সোবহান, ছেলে মুশফিক সোবহান, মেয়ে সানজানা সোবহান ও জামাতা এটিএম শাহেদ পারভেজ।
চিঠিতে রাবির সাবেক উপাচার্যসহ তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের একক বা যৌথ নামে অথবা তাদের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক আমানত, যেকোনও স্থায়ী, চলতি ও ঋণ হিসাব, ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, সঞ্চয়পত্র বা অন্য যেকোনও ধরনের সঞ্চয় থাকলে আগামী ১ জুনের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে।
এনবিআরের চিঠিতে ব্যাংকগুলোকে ২০১৪ সালের ১ জুলাই থেকে হালনাগাদ তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। উল্লিখিত সময়ের আগেও যদি কোনও হিসাব থাকে তাও সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।
গত ২৪ মে এনবিআর’র সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এই চিঠি দিয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ১১৩ (এ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, অধ্যাপক সোবহান উপাচার্য থাকাকালে নিয়ম ভঙ্গ করে তার মেয়ে ও জামাতাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। অধ্যাপক সোবহান তার মেয়াদে অন্তত ৩৬৪ জন শিক্ষক এবং ৫৯৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। গত ৬ মে মেয়াদের শেষ দিনে অধ্যাপক সোবহান অন্তত ৯ শিক্ষকসহ ১৩৭ জনকে নিয়োগ দিয়ে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেদিনই ওই নিয়োগকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে তদন্ত কমিটি গঠন করে।
কমিটি তদন্তে ওই নিয়োগে আইন ভঙ্গের প্রমাণ পায় এবং অধ্যাপক সোবহান ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য অনুসন্ধানের সুপারিশ করে।