কোরআন অবমাননার গুজবে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা, আসামির জামিন

লালমনিরহাটের বুড়িমারী উপজেলায় কোরআন অবমাননার গুজবে শহিদুন্নবী জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় মো. শরিফুল ইসলাম নামের এক আসামিকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

তার জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে রবিবার (৩০ মে) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট হাসান মাহমুদ খান।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, নিহত শহিদুন্নবী জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রীপাড়া এলাকার আব্দুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। তিনি ছিলেন রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র।

শহিদুন্নবী জুয়েল চাকরিচ্যুত হওয়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। ২০২০ সালের ১৯ অক্টোবর বিকালে সুলতান রুবায়াত সুমন নামে একসঙ্গীসহ বুড়িমারীতে বেড়াতে যান তিনি। সেদিন বিকালে বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করেন তারা। কিন্তু পবিত্র আল কোরআন অবমাননার গুজবে সন্দেহবশত জুয়েল ও সুলতান রুবায়াত সুমনকে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে আটকে রাখে স্থানীয় জনতা।

খবর পেয়ে পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও এবং ওসি বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন।  সেসময় কোরআন অবমাননার দায়ে দুই যুবককে আটক করার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উত্তেজিত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দরজা জানালা ভেঙে প্রশাসনের কাছ থেকে জুয়েলকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে মরদেহ টেনে পাটগ্রাম বুড়িমারী মহাসড়কে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।

এ ঘটনায় জাতীয় মানবধিকার কমিশনের তদন্ত দল ২০২০ সালের ১ নভেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানায়, মসজিদে পবিত্র কোরআন অবমাননার কোনও ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটিও কোরআন অবমাননার সত্যতা পায়নি।

জুয়েলকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় পাটগ্রাম উপজেলার সামসুদ্দিন ইসলামের ছেলে মো. শরিফুল ইসলামকে ২০২০ সালের নভেম্বরে শুরুতেই গ্রেফতার করা হয়।

আরও পড়ুন:

জুয়েলের বিরুদ্ধে কোরআন অবমাননার প্রমাণ মেলেনি: গোয়েন্দা প্রতিবেদন