টেলিমেডিসিনের চিকিৎসকের টাকা নিয়ে গেলো সাইবার প্রতারক চক্র

স্পুফ কলের মাধ্যমে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) নিয়ে এক টেলিমেডিসিন চিকিৎসকের লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে তিন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সিটি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. সাগর আহম্মেদ, মো. বিপুল হোসেন ও হামিদুল ইসলাম।

গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ সূত্র জানায়, করোনাকালে চিকিৎসকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা প্রদান করে আসছেন। এমন একজন সিনিয়র নারী চিকিৎসক টেলিমেডিসিন সেবা প্রদান করে অনলাইনে সম্মানী গ্রহণ করতেন। কিন্তু একদল এমএফএস (মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস) প্রতারক স্পুফ কল করে চিকিৎসককে প্রতারণা করে ওটিপি গ্রহণ করে একাউন্টে থাকা লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়। এ সংক্রান্তে কাফরুল থানায় মামলা হয়। মামলাটি তদন্ত শুরু করে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের ইন্টারনেট রেফারেল টিম।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে। গত ২৭ জুন ১টা থেকে ২৮ জুন বিকাল ৬টা পর্যন্ত মাগুরা, রাজবাড়ী ও শ্রীপুর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার অভিযানে ঢাকা থেকে নেতৃত্বে দেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মো. সাগর আহম্মেদকে মাগুরা সদর থেকে, মো. বিপুল হোসেনকে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থেকে ও হামিদুল ইসলামকে মাগুরা জেলার শ্রীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের সূত্রটি আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন, গ্রেফতারকৃত সাগর আহমেদ রবির সিম বিক্রির নামে গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের কাছ থেকে বারবার আঙুলের ছাপ নিয়ে একাধিক সিম রেজিস্ট্রেশন করে নিয়ে নিজের কাছে রাখতেন। অপর গ্রেফতারকৃত বিপুল হোসেন সাগরের কাছ থেকে সিমগুলো নিয়ে মূল প্রতারকদের কাছে সরবরাহ করতেন এবং গ্রেফতারকৃত হামিদুল ইসলাম ছিল মূল কলিং পার্টি।

আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।