পাঁচ বছরে সিটিটিসির ২৩ অপারেশনে ৬৩ জঙ্গি নিহত

২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর সারাদেশে ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান চালিয়েছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট (সিটিটিসি)। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পুলিশের এই নতুন ইউনিটের অভিযানে ৬৩ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সিটিটিসি'র প্রধান মো. আসাদুজ্জামান এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর সিটিটিসি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। এসময় অসংখ্য জঙ্গি গ্রেফতার হয়েছে। আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজানের ওই হামলায় মোট ২০ জন নিহত হন। এদের মধ্যে ১৭ জন বিদেশী নাগরিক (নয়জন ইতালিয়ান, সাতজন জাপানিজ এবং একজন ভারতীয়)। অবশিষ্ট তিনজনের মধ্যে একজন বাংলাদেশী-আমেরিকান নাগরিক এবং দুজন বাংলাদেশী। সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি ৩২ বিদেশী নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। উক্ত ঘটনায় সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে গিয়ে দুজন পুলিশ কর্মকর্তাও প্রাণ হারান।

মামলা তদন্তে সর্বমোট ২১ আসামির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। যাদের মধ্যে ১৩ জন বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নিহত হন। তার মধ্যে পাঁচজন ঘটনাস্থলে অপারেশন থান্ডারবোল্টে নিহত হয়। আর গ্রেফতারকৃত আটজনের মধ্যে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে আদালত। মো. মিজানুর রহমান (৬০) নামে একজনকে খালাস দেওয়া হয়। বর্তমানে জেল কর্তৃপক্ষের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল থেকে হাইকোর্ট বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শরিফুল ইসলাম রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, হলি আর্টিজানে এই ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর বিগত পাঁচ বছরে সিটিটিসি একের পর এক সফল অভিযানের মাধ্যমে উগ্রবাদী কর্মকান্ডকে কঠোরভাবে প্রতিহত করেছে। কল্যাণপুরে অপারেশন সার্ম-২৬, নারায়ণগঞ্জে অপারেশন হিট স্টর্ম-২৭, গাজীপুরের পাতারটেকে অপারেশন স্পেট-৮সহ সিটিটিসি কর্তৃক ২৩টি হাই-রিস্ক অপারেশনে ৬৩ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। সিটিটিসির তদন্ত করা হলি আর্টিজান এবং অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড; এই দুটি মামলায় রায় হয়েছে যেখানে ১২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সিটিটিসি কর্তৃক গৃহীত অন্যান্য পদক্ষেপ
সিটিটিসি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে হার্ড অ্যাপ্রোচ ও সফট অ্যাপ্রোচের সমন্বিত পদক্ষেপ অর্থাৎ স্মার্ট অ্যাপ্রোচ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে সিটিটিসি আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজন করেছে।

যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়, পুলিশ সদস্য, কারা কর্মকর্তা ও কারারক্ষী, চৌকিদার-দফাদার, জনপ্রতিনিধি, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, এনজিও সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিক, ধর্মীয় স্কলার, জামিনপ্রাপ্ত উগ্রবাদী বা সন্ত্রাসী, তাদের বাবা-মা ও পরিবারের সদস্য, সন্ত্রাসী ঘটনার ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন অংশীজনের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মশালা।

সিটিটিসি বলছে, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এ পর্যন্ত এ ধরনের ১৭৪টি আলোচনা সভা বা কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে ৩৯ হাজার ৪০০ জনকে উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সচেতন করে তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলের মতামতের ভিত্তিতে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে একটি সমন্বিত কর্মকৌশল গ্রহণের গুরুত্ব উপলব্ধি করে সিটিটিসি ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ, নাগরিক সমাজ, শিক্ষা-গবেষণা ক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক এনজিওসমূহের প্রতিনিধিগণের অংশগ্রহণে দেশে প্রথমবারের মত উগ্রবাদ বিরোধী জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সাইবার স্পেসকে নিরাপদ রাখতে সিটিটিসি কর্তৃক সাইবার মনিটরিংসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত আছে।