রাজধানী দক্ষিণখান থানায় মানবপাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামি অমিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
শনিবার (৩ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈনুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এদিন অমিকে ২ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করেন। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বুধবার (৩০ জুন) অমির বিরুদ্ধে রাজধানী দক্ষিণখান থানায় মানবপাচারের মামলায় দুইদিন ও পাসপোর্ট আইনের মামলায় তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এর আগে পাসপোর্টের অভিযোগে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে অমির ৮ সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ৩৯৫টি পাসপোর্ট, অমির চারটি বিলাসবহুল গাড়ি, ২২টি হার্ড ডিস্ক, সম্পত্তির দলিল, ক্রেডিট কার্ড, অলিখিত স্ট্যাম্প, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, ভিসা কার্ড, পেনড্রাইভ ও মোবাইল সেট জব্দ করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) রাজধানীর দক্ষিণ খান থানায় অমির বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা করে এক ভুক্তভোগী। মামলায় অমি ছাড়া আরও পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও পাঁচ-সাতজনকে।
উল্লেখ্য, অমি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন দেশে মানবপাচার করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করে আসছে। তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পত্তির মালিক হয়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণখান থানাধীন আশকোনা হাজি ক্যাম্প সংলগ্ন সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তুহিন সিদ্দিকী অমির। ১৫ জুন রাতে ঢাকা জেলা পুলিশ এসে দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে অমির দুই সহযোগী বাছির ও মশিউরকে আটক করে। আটকের পর ঢাকা জেলা পুলিশ বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলাটি পাসপোর্ট অ্যাক্টে করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ১০২টি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।