রাজধানীর ওয়ারীতে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বড় ভাইয়ের কথা কাটাকাটি হয়। পরে ছোট ভাই কাঁচি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে বড় ভাই শামস তাবরেজ বিপ্লবকে। এই ঘটনায় তার ছোট ভাই শামশের ইসলাম পিয়াসের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়েছেন আদালত।
বুধবার ( ৭ জুলাই ) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ধীমান চন্দ্র মণ্ডলের আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহির হোসেন আসামি পিয়াসকে আদালতে হাজির করেন। এসময় আসামি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তার রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর আদালত আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, মাকে নিয়ে দুই ভাই ওয়ারীর যোগীনগর লেনে থাকতেন। গত ২ জুলাই বিকাল সাড়ে চারটার দিকে মা আনোয়ারা ইসলাম এবং দুই ছেলে শামস তাবরেজ বিপ্লব ও শামশের ইসলাম পিয়াসকে নিয়ে ড্রয়িং রুমে বসে ছিলেন। আনোয়ারা ইসলাম শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় ছোট ছেলে পিয়াসের কাছে ডাবের পানি চান। পিয়াস পানি দিতে গেলে বড় ভাই বিপ্লবের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি এবং ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে বড় ভাই বিপ্লব ছোট ভাই পিয়াসকে চড়-থাপ্পড় মারেন।
তারই এক পর্যায়ে পিয়াস ড্রইং রুম থেকে কাঁচি এনে বিপ্লবের মাথায় ও কানের গোঁড়ায় আঘাত করে। পরে তাকে রামপুরা বেটারলাইভ হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ জুলাই ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মারা যান বিপ্লব। এ ঘটনায় ছোট ভাইকে একমাত্র আসামি করে ৬ জুলাই ওয়ারী থানায় মামলা দায়ের করেন সৎ বোন সানিয়া ইসলাম স্নিগ্ধা। এরপর পুলিশ পিয়াসকে গ্রেফতার করে।