সাংবাদিকদের তথ্য সরবরাহ করার অভিযোগে ঢাকা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হককে পদাবনতি দেওয়া ওয়াসার সিদ্ধান্তের কার্যক্রম এক মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে রবিবার (১১ জুলাই) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এস এস আরেফিন জুননুন।
এর আগে ২০১৭ সালের জুলাই ও আগস্টে তিনটি জাতীয় দৈনিকে ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল ও জলাবদ্ধতা বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওইসব প্রতিবেদনে ঢাকা ওয়াসার তৎকালীন ড্রেনেজ সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হকের মতামত উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওয়াসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে অভিযোগ তুলে তদন্ত কমিটি গঠন করে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। সংস্থার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ২০২০ সালের ২১ ডিসেম্বর প্রকৌশলী মোজাম্মেল হককে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন জমা দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগের বিষয় উদ্ঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট পত্রিকার প্রতিবেদকদের বরাবর ৫ বার চিঠি দেওয়া হলেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে প্রতিবেদকদের সঙ্গে সশরীরে দেখা করেন তিনি (প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন)। সে সময় তারা (প্রতিবেদকরা) এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে তারা জানান, প্রতিবেদনে প্রকাশিত মতামত প্রকৌশলী মোজাম্মেল হকের সঙ্গে কথা বলে তুলে ধরা হয়েছে। আর মোবাইল ফোনে তারা (প্রতিবেদকরা) এ মতামত নিয়েছেন তার (প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক) কাছ থেকে। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ চাকরি প্রবিধানমালা-২০১০ এর ৩৭(৬) উপধারা মতে, কর্তৃপক্ষের বিষয়াদি সম্পর্কে সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ স্থাপন করে বিবৃতি প্রদান করা আইনত নিষিদ্ধ বিধায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা যুক্তিযুক্ত।
পরে গত ৮ জানুয়ারি ঢাকা ওয়াসার সচিব দ্বিতীয় দফায় প্রকৌশলী মোজাম্মেল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন প্রবিধানমালা ২০১০-এর ৩৭-এর ৬ প্রবিধি মতে, ‘কোনও কর্মচারী কর্তৃপক্ষের বিষয়াদি সম্পর্কে সংবাদপত্র বা অন্য কোনও গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন না’ মর্মে উল্লেখ রয়েছে। এ বিধান থাকা সত্ত্বেও আপনি সংস্থার একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা হয়েও সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন। এতে কর্তৃপক্ষের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।’
প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারণ দর্শানোর জবাব দিয়েছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, ‘তিনটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত মতামতে তারা নাম উল্লেখ থাকলেও প্রতিবেদকরা কোনও লিখিত বক্তব্য, অডিও ক্লিপ বা অন্য কোনও প্রকার প্রমাণপত্র তদন্ত কর্মকর্তার নিকট পেশ করেননি। তদন্ত কর্মকর্তার এমন স্বীকারোক্তিতে আনা অভিযোগের কার্যকারিতা থাকে না। এছাড়া ওই প্রতিবেদকদের সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার কী কথা হয়েছে, তার কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই।
এদিকে গত ৪ জুলাই ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানের সই করা চিঠিতে ঢাকা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হককে পদাবনতির সিন্ধান্ত জানানো হয়। কিন্তু ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান ছুটিতে দেশের বাইরে থাকায় ওই চিঠিতে তিনি সবা করতে পারেন না। তাই সেসব যুক্তিতে ওয়াসার সিদ্ধান্ত স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।