ঘুষ গ্রহণ ও মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের বরখাস্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজনস) পার্থ গোপাল বণিকের আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার( ১৫ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেনের আদালত এই আদেশ দেন। আদালতের দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিন জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পার্থ গোপাল আদালতে উপস্থিত হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আবারও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।অন্যদিকে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর জামিন বাতিলের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত তার জামিনের আদেশ দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেনের ভার্চুয়াল আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী এহসানুল সমাজী জামিন আবেদন করলে আদালত বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলাটির কার্যক্রম বিশেষ জজ আদালত-১০ এ ছিল।পরে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মামলাটি নিয়ে বিব্রতবোধ করায় মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ বদলির আদেশ দেন। এর আগে গত ৪ নভেম্বর পার্থ বণিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
গত ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে ২৯ অক্টোবর অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য করে মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এ বদলির আদেশ দেন। এর আগে গত ২৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন।
২০১৯ সালের ২৮ জুলাই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পার্থ গোপাল বণিককে জিজ্ঞাসাবাদ করার এক পর্যায়ে অভিযানে যায় দুদক। ওইদিন বিকালে ধানমন্ডির ভূতের গলিতে পার্থ গোপালের ফ্ল্যাট থেকে নগদ ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করে দুদক। এরপর তাকে আটক করা হয়। পরদিন ২৯ জুলাই তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪ (২) ধারায় দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলা দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, বরখাস্ত কারা উপ-মহাপরিদর্শক পার্থ গোপাল বণিক সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে ৮০ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেন। এই টাকা গোপন করে, তার নামে কোনও ব্যাংক হিসাবে জমা না রেখে, বিদেশে পাচারের উদ্দেশে নিজ বাসস্থানে লুকিয়ে রেখে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।