সিনেমার পাইরেসি বন্ধে কেন্দ্রীয় সার্ভার হবে: তথ্যমন্ত্রী

এফডিসিতে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসিনেমার পাইরেসি বন্ধে একটি কেন্দ্রীয় সার্ভার স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, যেখান থেকে হলগুলোয় ইন্টারনেটের মাধ্যমে সিনেমা প্রদর্শিত করা হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা কেন্দ্রীয় সার্ভার তৈরি করব। বুধবার তেজগাঁওস্থ এফডিসিতে ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বুধবার রাজধানীর গুলিস্তান থেকে পাইরেসি চক্রের ৯ সদস্যকে আটক করে র‌্যাব-৩। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, পাইরেসির মূলহোতা সাগর ওরফে জনি চৌকিদার, ইউনানি হারবালের মালিক মো. হাকিম, জুয়েল, রাজু, আজিম, বাবু, বক্কর, ইব্রাহীম ও হীরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে  ২৫ হাজার সিডি, দুটি পিস্তল ও মাদক। আটকের পর এফডিসিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে র‌্যাব ও ভিডিও পাইরেসি রোধে গঠিত টাস্কফোর্স।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভিডিও পাইরেসি একটি অসাধু চর্চা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই চর্চা আছে। আমরা এটি কমিয়ে নিয়ে এনেছি। প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্রকে শিল্প ঘোষণা করেছেন। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সিনেমার পাইরেসি বন্ধে শিগগিরই একটি কেন্দ্রীয় সার্ভার স্থাপন করা হবে। সেই সার্ভারে মুক্তিপ্রাপ্ত সব ছবি থাকবে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ওই সার্ভার থেকে হলগুলোয় সিনেমা প্রদর্শিত হবে। তাহলে আর পাইরেসি হবে না।

ইনু বলেন, সিনেমা হলের পরিবেশের জন্য মালিকদের আমরা টাকা দিতে চাই। কিন্তু মালিকরা টাকা নিতে চাচ্ছেন না। এখানেও নিশ্চয় কোনও ঝামেলা আছে। তিনি বলেন, পাইরেসি রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আমাদের আস্থা রাখতে হবে। তার কাজ করে যাচ্ছে। টাস্কফোর্স গঠন করার পর চলচ্চিত্রে নতুন ধারা সৃষ্টি হয়েছে। এখন মানসম্মত চলচ্চিত্র তৈরি হচ্ছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্র জগতের খলনায়ক পাইরেসি, গণতন্ত্রের খলনায়ক জঙ্গিবাদ। এই দুটোকেই আমাদের প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি এ সময় মেধাস্বত্ব আইনে শিল্লীদের নাম নিবন্ধন করার জন্য অনুরোধ করে বলেন, এটা করা হলে পাইরেসির বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারবে। অবৈধ ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করা হবে। আপনারা ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য দিন। যারা গান, সিনেমা ও নাটক বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে। 

ইনু বলেন, পাইরেসি বন্ধ করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। পাইরেসি প্রতিরোধে যে আইন আছে, তা  মোবাইল কোর্ট দিয়ে আংশিকভাবে প্রয়োগ ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ব্রিফিংয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আক্তার ইমাম তাজ বলেন, পাইরেসি বন্ধে কঠোর আইন আছে। তবে মোবাইল কোর্ট যাতে এই আইনটি প্রয়োগ করতে পারে সে বিষয়ে আমরা উদ্যোগ নিতে পারি।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, র‌্যাব ২০০৭ সাল থেকে পাইরেসির বিরুদ্ধে কাজ করছে। পাইরেসির সঙ্গে এই শিল্পেরও অনেকে জড়িত। আমরা তাদেরও আটক করেছি। র‌্যাব এই সংক্রান্ত ৭৭৭টি মামলা করেছে। ২ হাজার ৩শ জনকে গ্রেফতার করেছে। বিপুল পরিমাণ পাইরেটেড সিডি উদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, শুধু প্রতিকার করলে হবে না, প্রতিরোধ ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে। মানুষ যেন বৈধভাবে ইন্টারনেট থেকে গান, সিনেমা ও নাটক ডাউনলোড করতে পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে অবৈধগুলোয় আর কেউ যাবে না।

পাইরেসি একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে বলেন, সন্ত্রাসীদের এই দেশে বসবাস করার অধিকার নেই। এদের এই সমাজে থাকারও দরকরা নাই।

বাংলাদেশ ফ্লিম ডিরেক্টর অ্যাসোশিয়েশনের সভাপতি মো. গুলজার বলেন, আমরা পাইরেসির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে কাজ করে যাচ্ছি। র‌্যাব, পুলিশ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। তারাও চেষ্টা করছে। আমরা সবাই মিলে পাইরেসির বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছি।

ব্রিফিংয়ে আরও বক্তব্য রাখেন, পরিচালক কাজী হায়াৎ, গুনি অভিনেতা হাসান ইমাম, মিজু আহমেদ, ইলিয়াস কাঞ্চন, কণ্ঠশিল্পী শাফিন আহমেদ, আয়ুব বাচ্চু, কুমার বিশ্বজিৎ প্রমুখ।

/এআরআর/এমএনএইচ/