জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগে দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব

ছোট ভাই ‘হত্যায়’ বড় ভাই ১২ বছরের শিশুর কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী আদায়ের ঘটনায় দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২২ আগস্ট ওই মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন সারিয়াকান্দির উপপরিদর্শক বর্তমানে নাটোরে সিআইডির পরিদর্শক নয়ন কুমারকে হাজির হয়ে এ ঘটনার লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। 

অপরদিকে মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়ার পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক মো. মনসুর আলীকে মামলার নথি (সিডি) নিয়ে হাজির থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
 
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. বশির উল্লাহ।

এর আগে ‘পুলিশের ভুলে ১২ বছরের শিশুর ঘাড়ে ছোট ভাই হত্যার দায়’ শিরোনামে একটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদ যুক্ত করে হাইকোর্টে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সাল থেকে ছোট ভাইকে হত্যার দায় নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে ১২ বছর বয়সী বড় ভাইকে। সে বছর ২৫ আগস্ট বগুড়ার কাটাখালি গ্রামের একটি পাটখেত থেকে উদ্ধার করা হয় মহিদুল ইসলামের ছেলে সোহাগের মরদেহ। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে পুলিশ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় বড় ভাইকে। জোর করে হত্যার স্বীকারোক্তিও নেওয়া হয়। এ মামলায় এখন বাড়ি ছাড়া পুরো পরিবার। এদিকে সন্তান হত্যা এবং আরেক সন্তানের বিরুদ্ধে মিথ্যার মামলার অভিযোগ থেকে রক্ষা পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোনও সহায়তা না পেয়ে দিশাহারা পরিবারটি।

ওই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার ওই শিশুকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছিলেন। আর মনসুর আলী ওই শিশুকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন করে দুই আসামিকে অভিযু্ক্ত করে চার্জশীট দিয়েছিলেন।