ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর

এক হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ২০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবুবকর সিদ্দিকের আদালত এই আদেশ দেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে একই আদালতে ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী  মাসুকুর রহমান আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের জন্য আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের দুই জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে  সোমবার (১৬ আগস্ট) মামলাটি করেছেন ই-অরেঞ্জের প্রতারণার শিকার মো. তাহেরুল ইসলাম নামে একজন  গ্রাহক। আদালতে উপস্থিত থেকে মামলার বাদীর সঙ্গে সাক্ষ্য দিয়েছেন প্রতারণার শিকার আরও  ৩৭ জন।

মামলার এজাহারে তাহেরুল ইসলাম জানান, তিনি গত ২১ এপ্রিল পণ্য কেনার জন্য ই-অরেঞ্জকে অগ্রিম টাকা দেন। তবে ই-অরেঞ্জ নির্ধারিত তারিখে পণ্য সরবরাহ করেনি। টাকাও ফেরত দেয়নি। নিজেদের ফেসবুক পেজে বার বার নোটিশ দিয়েছে। সময় চেয়েছে। কিন্তু পণ্য ও টাকা দেয়নি। সর্বশেষ তারা গুলশান-১ এর ১৩৬/১৩৭ নম্বর রোডের ৫/এ নম্বর ভবনে অবস্থিত ই-অরেঞ্জের অফিস থেকে পণ্য ডেলিভারির কথা বললেও তারা ডেলিভারি দেয়নি। এছাড়াও তারা যে বিভিন্ন আউটলেটের গিফট ভাউচার বিক্রি করেছিল, সেগুলোর টাকা আটকে রাখায় আউটলেটগুলো ভাউচারের বিপরীতে পণ্য দিচ্ছে না।

বাদী আরও  জানান, আমরা এই করোনাকালীন সময় আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ পাচ্ছি না, বরং প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছি। এছাড়াও আজ  পর্যন্ত তারা ভুক্তভোগীদের কোনো পণ্য ডেলিভারি না করে এক লাখ ভুক্তভোগীর প্রায় ১১০০ কোটি টাকা প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করেছে।

মামলায় অর্থ আত্মসাৎকারী হিসেবে যেসব আসামির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন— মাসুকুর রহমান, আমানউল্ল্যাহ, বিথী আক্তার, কাউসার আহমেদ, সোনিয়া মেহজাবিনসহ ই-অরেঞ্জের সব মালিক। মামলার এজাহারে উল্লিখিত আসামিদের প্রত্যেককেই ই-অরেঞ্জের মালিক বলে এজাহারের দাবি করা হয়।

আরও পড়ুন:

ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন স্বামীসহ কারাগারে  

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা