সোমবার বিকেলে পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. জাকির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রবিবার বিকালে মিরপুর ১৩ নম্বরে ৩২১ নম্বরের নিজ বাসার সামনে থেকে প্রলয় বৈদ্য (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে এলাকার টহল পুলিশে থাকা এএসআই আমিনুল। প্রলয় বৈদ্য ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সুনীল কুমার বৈদ্যের ছোট ছেলে। এই ঘটনায় রবিবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আটকের পর ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডিএমপি কমিশনার নির্দেশে প্রলয়ের কাছ থেকে মুচলেকা রেখে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ময়মনসিংহে নিজের কর্মস্থলে ফিরে যান প্রলয়।
গফুরগাঁওয়ের সিসিডিবি নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষক প্রলয় বৈদ্য গত বুধবার আমেরিকা ফেরত বড়ভাই প্রদীপ বৈদ্যের সঙ্গে দেখা করতে ঢাকায় আসেন। তার স্ত্রী, মা ও অন্য আরও এক ভাই মিরপুরের তাদের নিজেদের বাসায় থাকেন। রবিবার বিকালে বাকরখানি কেনার জন্য বাসার নিচে আসেন প্রলয়। এসময় পুলিশ তাকে আটক করে।
প্রলয় বৈদ্য অভিযোগ করেন, ‘রবিবার বিকালে আমার বাসার সামনে তিন পুলিশ আমাকে ধরে। এরমধ্যে সাদা পোশাকে থাকা দুজন আমার পকেটে হাত দেয়। তারপর আমার পকেটে হাত দিয়ে দুই পিস ইয়াবা বের করে। এরপর আমাকে গাড়িতে তুলে বিআরটিএ’র অফিসের সামনে নিয়ে আসে।একলাখ টাকা দাবি করেন তারা। বিনিময়ে আমাকে ছেড়ে দেবেন বলে জানান। আমি দশ-বিশ হাজার টাকা দিতে রাজি হই। বাঁচার জন্য বারবার টাকার কথা বলি, কিন্তু ওরা একলাখ টাকার কমে রাজি হচ্ছেল না। এরমধ্যে আমার মোবাইলটিও নিয়ে যায়। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। রাত হয়ে যায়। পুলিশ আমাকে কাজীপাড়া হয়ে আইডিবি ভবনের সামনে নিয়ে আসে। এরমধ্যে আমার পরিবারের লোকজন আমাকে খোঁজাখুজি শুরু করে। কাফরুল থানার পরিচিত এক পুলিশ সদস্যকে ফোন দিয়ে জানতে পারে এএসআই আমিনুল আমাকে ধরেছে। এরপর আমার বড়ভাই প্রদীপ আমিনুলকে ফোন দেন। বিষয়টি আমার স্বজনরা পরিচিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের জানান। এরপর এএসআই আমিনুলসহ তিন পুলিশ আমার হাত-পা ধরা শুরু করে। ঊর্ধ্বতন পুলিশকে কিছু না জানানোর জন্য তারা আমাকে অনুরোধ করে। আমি তাদের বলেছি কিছু বলব না। এরপর তারা আমাকে ডিএমপি সদর দফতরে নিয়ে যান। সেখানে ডিএমপি ডিসি হেডকোয়ার্টার আনোয়ার হোসেন এবং মিরপুর জোনের ডিসি মো. কায়ুমুজ্জামান এএসআই আমিনুলকে এবং আমাকে বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদ করে। আমিনুলের চাকরির ক্ষতি হবে ভেবে পুরো ঘটনা আমি তাদের বলিনি। বিষয়টি ডিসি কায়ুমুজ্জামানও বুঝতে পারেন। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, ওরা আমাকে ভয় দেখিয়েছে কিনা? আমি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। এরপর আমাকে মিরপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) জাকির হোসেনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমার এবং আমার ভাইয়ের স্বাক্ষর রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর সোমবার সকালে আমি ময়মনসিংহের কর্মস্থলে চলে আসি।’
এদিকে এ বিষয়ে ডিসি কায়ুমুজ্জামান এসি জাকির হোসেনকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
এসি জাকির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইয়াবাসহ কাউকে আটক করতে হলে যে প্রক্রিয়ায় করতে হবে সেটি অনুসরণ করা হয়নি। পুলিশের সোর্স কারও পকেটে হাত দিতে পারবে না। প্রলয়ের পকেটে পুলিশের এক সোর্স হাত দিয়েছিল। পুলিশও যদি কাউকে তল্লাশি করে তাহলে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতি তা করতে হবে। এদের ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি। প্রলয়কে নিয়ে তারা গাড়িতে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেছে। টাকা চেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ইয়াবা কোথা থেকে আসলো তা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তে যদি বের হয় ইয়াবা এএসআই দিয়েছে তা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রলয়ের কাছ থেকে আসলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এএসআই আমিনুল তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের কাছে খবর ছিল ইব্রাহীমপুরে আরও এক ব্যক্তির কাছে ৫০ পিস ইয়াবা রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য প্রলয়কে থানায় নিতে দেরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন স্যাররা জানার পরই প্রলয়কে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।’
‘সুস্থভাবে আমার ভাইকে বুঝিয়া পেলাম’ এই মর্মে মুচলেকা দিয়ে প্রলয়ের বড়ভাই প্রদীপ বৈদ্য তার ভাইকে এসি জাকির হোসেনের কাছ থেকে বুঝে নেন। মুচলেকায় ইয়াবার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
/এআরআর/এফএ/