শিশু মরিয়ম ফুল বিক্রির পাশাপাশি বাসে উঠে যাত্রীদের কাছে আর্থিক সহায়তাও চাইতো। প্রতিদিনের মতো ৯ নভেম্বর সকালেও রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের বিপরীত পাশে সে একটি বাসে ওঠে। তবে সে যাত্রী নয়; তা বুঝতে পেরে তার ওপর ক্ষুব্ধ হয় রাইদা পরিবহনের ওই বাসটির চালক ও হেলপার। গাড়ির গতি কমিয়ে তাকে নামতে দেওয়া হয়, তবে নামার আগেই গতি বাড়িয়ে দেওয়ায় বাস থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয় শিশু মরিয়ম। পরে পথচারীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার চারদিন পর ওই বাসের চালক রাজু ও তার সহযোগী ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
শনিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, এ ঘটনার ছায়া তদন্ত করতে গিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কের আশপাশ এলাকা ও প্রগতি সরণির প্রায় ৫০টি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। সিসিটিভি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে জানা যায়, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত বাসটি হচ্ছে রাইদা পরিবহনের। চিহ্নিত হওয়ার পর বাসটি জব্দ করা হয় এবং শুক্রবার (১২ নভেম্বর) আব্দুল্লাহপুর বাসের হেলপার ইমরান ও টঙ্গী থেকে বাসের চালক রাজুকে গ্রেফতার করা হয়।
খন্দকার আল মঈন বলেন, ঘটনার দিন (৯ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় যমুনা ফিউচার পার্কের বিপরীত পাশে এক মেয়ে শিশুকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। পরবর্তী সময়ে পুলিশি সহায়তা নেওয়া হলেও পুলিশ অজ্ঞাতনামা শিশুদের পরিচয় নিশ্চিতে কাজ শুরু করে।
এদিকে বাবা রনি সকাল থেকেই মেয়েকে না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করছিল। পরবর্তীতে সে জানতে পারে অজ্ঞাতনামা পরিচয় এক মেয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে ভাটারা থানায়। পরে ভাটারা থানায় গিয়ে মেয়েকে শনাক্ত করে। তবে তার মেয়ে মরিয়মকে আর জীবিত পাননি তিনি নিথর দেহ দেখতে পান ভাটারা থানায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা রনি বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
গ্রেফতার দুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে র্যাব জানায়, চলন্ত বাস থেকে পড়ে মৃত্যুর ঘটনায় তারা স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। ঘটনা দিন (৯ নভেম্বর) রাইদা পরিবহনের বাসটির বেপরোয়া গতির কারণেই শিশু মরিয়ম নামতে গিয়ে বাস থেকে পড়ে যায়। সেসময় বাসের অন্যান্য যাত্রীরা চালককে বাস থামানোর কথা বললেও বাস না থামিয়ে দ্রুতগতিতে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এছাড়া শিশুটির সাথে ধর্ষণের কোনও ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত করা হয়েছে এবং আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে পরবর্তীতে রিপোর্ট এলে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
জানা গেছে, শিশু মরিয়মকে ২০১৯ সালে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করানো হলেও পরবর্তী সময়ে আর্থিক অনটনের কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় তার। বিভিন্ন সময়ে পথশিশু হিসেবে লোকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা চাইতো আর মাঝেমধ্যে ফুল বিক্রি করতো।