ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে নিখোঁজ হওয়া এক ব্যক্তির ২০ দিন পর লাশ মর্গে পাওয়া গেছে। মৃতের নাম আব্দুল খালেক (৭০)। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা।
রবিবার (১৪ নভেম্বর) মৃতের ছেলে আলমগীর জানিয়েছেন, গত মাসের ২৩ তারিখ বাবা আব্দুল খালেককে (৭০) অসুস্থ অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসার জন্য তিনি নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, তার বাবার শারীরিকসহ মানসিক সমস্যা ছিল।
তিনি আরও বলেন, বহির্বিভাগে সে সময়ে ভিড় থাকায় বাবাকে বসিয়ে রেখে তিনি টয়লেটে যান। ফিরে এসে তার বাবাকে সেখানে আর পাননি। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে বিভিন্ন দিন বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে খুঁজেছেন, কিন্তু বাবার সন্ধান তিনি পাননি। পরে গত ১৩ নভেম্বর সংবাদ পেয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে এসে মরদেহ দেখেতে পান। পর দিন (১৪ নভেম্বর) ময়নাতদন্তের পর দুপুরে লাশ নিয়ে যান। বিকালে এলাকার কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ঢামেক হাসপাতাল ও শাহবাগ থানা সূত্রে জানা গেছে, ঢামেকের সামনে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে আব্দুল খালেককে হাসপাতালের (স্টাফ) লোক দিয়ে উদ্ধার করে ১১ নভেম্বর রাত সাড়ে আটটায় সেখানে ভর্তি করান ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া। সেখানে (১০২ নম্বর ওয়ার্ড) ১২ নভেম্বর রাত সাতটায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে বিষয়টি হাসপাতালের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় জানানো হয়। শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাইনুল ইসলাম ঢামেক মর্গে এসে তার সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। পরে ১৪ নভেম্বর দুপুরে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এর আগে মৃতের স্বজন না পাওয়ায়, সিআইডি’র মাধ্যমে তার আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গার প্রিন্ট) সংগ্রহ করেন।
এসআই মাইনুল ইসলাম আরও বলেন, ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় পেয়ে তাদের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। পরে তার লোকজন এসে শনাক্ত করেন। মৃতের ছেলে ময়নাতদন্তের পর মরদেহ নিয়ে যান।
এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, গত ১১ নভেম্বর অসুস্থ অবস্থায় শাহবাগ এলাকায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে ঢামেকে নিয়ে আসেন। তার পায়ে কালো ফোলা দাগ ছিল। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে রেফার করে দেন। তার কোনও লোকজন না থাকায় ঢামেক হাসপাতালের এক লোক দিয়ে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ভর্তি না নেওয়ায় পুনরায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়। পরে ওয়ার্ড মাস্টার আব্দুল গফুরের মাধ্যমে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন থেকে পরে মারা যান তিনি।