দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থপাচারের ঘটনাকে ‘গুরুতর অপরাধ’ বলে পর্যবেক্ষণ দেওয়ায় এখন থেকে দেশের সব আদালতে আসামির জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অপরাধের গুরুত্ব ও সম্পৃক্ততা বিবেচনা করতে হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলেছেন, অর্থপাচার একটি গুরুতর অপরাধ। এ কারণে এসব (অর্থপাচার) মামলায় জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা (আপিল বিভাগ) নিরুৎসাহিত (আপিল বিভাগের অধস্তন আদালতকে) করেছেন। কারণ এর সঙ্গে যারা জড়িত তারা অর্থনৈতিক অপরাধ করে থাকে। যেহেতু দেশের মেরুদণ্ড অর্থনীতির ওপর নির্ভর করে সেহেতু এই ধরনের অপরাধীদের গুরুতর অপরাধী হিসেবে বিবেচনায় নিতে আদালতগুলোকে (আপিল বিভাগের অধস্তন আদালতকে) বলা হয়েছে।’
রায়ের কার্যকারিতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এএম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘দেশের সকল আদালতের ক্ষেত্রেই আপিল বিভাগের এই রায় প্রযোজ্য হবে। তাই এখন থেকে অর্থপাচার মামলায় আসামির জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অপরাধের গুরুত্ব ও সম্পৃক্ততা নিয়ে জামিনের বিষয়টি বিবেচনা (আপিল বিভাগের অধস্তন আদালতকে) করতে হবে।’
এর আগে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার রাজধানীর ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জয় গোপাল সরকারের পৃথক চার মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বাতিল করে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর ওই রায় প্রকাশিত হয়। এতে অর্থপাচারকে গুরুতর অপরাধ বলে মন্তব্য করে আপিল বিভাগ।
একইসঙ্গে আপিল বিভাগের রায়ে জয় গোপাল সরকারের বিরুদ্ধে থাকা অর্থপাচার মামলার বিচার আগামী একবছরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ১৯ আগস্ট জয় গোপাল সরকারকে চার মামলায় জামিন দিয়েছিল হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ২৩ আগস্ট হাইকোর্টের আদেশ ছয় সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শেষে রায় দেয় আপিল বিভাগ।