চার স্ত্রীকে নিয়ে বাবলুর অপহরণের সংসার

নাজমা আক্তার, বাবলু এবং অপহৃত শিশুসহ বাবা-মা (ডানে)চার জেলায় চার স্ত্রী মো. আব্দুল জব্বার ওরফে ঠান্ডু ওরফে বাবলুর। ভবঘুরে বাবুলের পেশা শিশু অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা। এতে সহযোগিতা করে তার চার স্ত্রী। গত ২৯ ডিসেম্বর রাজধানীর উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর গলির নাচ ভিলার সামনে থেকে ছয় বছরের শিশু মোবারক হোসেনকে অপহরণ করেন তিনি। শিশুটিকে নিয়ে তিনি তার চতুর্থ স্ত্রী নাজমা আক্তারের গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের মাওনার বাসায় রাখেন। এরপর তিনি চলে যান গাইবান্ধায় তার দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে। সেখানে গিয়ে বাবলু শিশুটির ফল বিক্রেতা পিতা মো. ফারুক হোসেনের কাছে মোবাইল ফোনে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। শিশুটির দরিদ্র পিতা সাড়ে ১৭ হাজার টাকা বিকাশে দেয় বাবলুকে। কিন্তু বাবলু এতে ক্ষুব্ধ হয়। তিনি আরও টাকা দাবি করেন, তা না হলে শিশুটিকে হত্যার হুমকি দেয়। এসময় তিনি ঘুরে-ফিরে চার স্ত্রীর কাছে থেকে এই ফোনগুলো করেন। ৪৬ দিন শিশুটিকে এভাবে আটকে রাখার পর অবশেষে ডিবির হাতে তার এক স্ত্রীসহ গ্রেফতার হয়েছেন।
রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম এ তথ্য জানান। এর আগে রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় ডিএমপির গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ টিম গাইবান্ধা এবং গাজীপুর জেলায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত ওই শিশু মোবারককে (৬) উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণকারী মো. আব্দুল জব্বার ওরফে ঠান্ডু ওরফে বাবলু ও তার স্ত্রী নাজমা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।
মনিরুল ইসলাম বলেন, গত ২৯ ডিসেম্বর রিকশাভ্যানে ফল বিক্রেতা মো. ফারুকের ৬ বছরের শিশু মোবারককে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর রোডে বাসার সামনে খেলাধুলা করতে বের হলে তাকে অপহরণ করা হয়। এর দুদিন পর অপহৃত শিশুর বাড়ির পাশের একটি দর্জির দোকানে ফোন করে অপহরণকারীরা জানায় যে, তারা ওই ছেলে অপহরণ করেছে এবং ছেলের বাবাকে মোবাইলে যোগাযোগ করতে বলেছে।

তিনি আরও বলেন, অপহৃত শিশুর বাবা ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে অপহরণকারীরা ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং এ ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে শিশুকে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। দর কষাকষির এক পর্যায়ে শিশুর বাবা অপহরণকারীদের দুটি নম্বরে বিভিন্ন সময়ে ১৭ হাজার ৭৭০ টাকা বিকাশ করে। এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়রি এবং ৪০ দিন পর শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের আশা ছেড়ে দিয়ে ওই থানায় একটি মামলা করা হয়।

অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, তদন্তের এক পর্যায়ে গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগে সাইবার ক্রাইম টিম আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অপহরণকারী আব্দুল জব্বারকে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থেকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার মাওনা গ্রামে তার বাড়ির থেকে স্ত্রী নাজমা আক্তারের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশু মোবারককে উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, আব্দুল জব্বার প্রকৃত নাম-ঠিকানা গোপন করে বাবুল ইসলাম নামে ২০০৪ সালে গাইবান্ধার সাঘাটা থানার চর এলাকায় সেলিনাকে, ২০০৭ সালে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানার বাওট গ্রামে স্বপ্নাকে এবং ২০১৩ সালে হেলাল নাম পরিচয় দিয়ে গাজীপুরের মাওনায় নাজমাকে বিয়ে করে। সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্ত্রীর কাছে আত্মগোপন করে থাকতো। অপহরণের ব্যাপারটি আব্দুল জব্বার ডিবির কাছে স্বীকার করেছে।

শিশু অপহরণের আর কোনও ঘটনা পুলিশ তদন্ত করছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি ছাড়া আমাদের কাছে দ্বিতীয় কোনও অপহরণের ঘটনা নেই। তবে যেকোনও অপহরণের ঘটনাই ডিবি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে।

/এআরআর /এএইচ/