না. গঞ্জে চঞ্চল হত্যা মামলা: চার্জশিটের বিরুদ্ধে না রাজি

আইন-আদালতনারায়ণগঞ্জের তরুণ নাট্যকার দিদারুল ইসলাম চঞ্চল হত্যা মামলার চার্জশিটের বিরুদ্ধে না রাজি পিটিশন দায়ের করেছেন মামলার বাদী। ত্রুটিপূর্ণ চার্জশিট দাখিলের অভিযোগ এনে বাদী নিহতের মা খালেদা আকতার রুবিনা মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুজ্জামান শরীফ এর আদালতে পিটিশন দায়ের করেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএমএ কবির জানান, চঞ্চল হত্যা মামলার চার্জশিটের বিরুদ্ধে না রাজি পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। এতে পুনরায় তদন্তের দাবি করা হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত ২২ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করেছেন।
পিটিশনে উল্লেখ করা হয়, নিহতের ভাই জোবায়ের ইসলাম পমেল ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির সময় জনৈক আফরিনের নাম বলেন এবং উক্ত আফরিন চঞ্চলের বিপদ সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন। কিন্তু আফরিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। এছাড়াও চার্জশিটে বিভিন্ন বিষয় ত্রুটিপূর্ণ রয়েছে।
দিদারুল ইসলাম চঞ্চলের বড় ভাই জোবায়ের ইসলাম পমেল বলেন, কোন প্রকার তদন্ত ছাড়া, নতুন কোন আসামিকে গ্রেফতার ছাড়া, কারও জবানবন্দি না নিয়ে একটা মনগড়া চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তিন বছর আগে আমাদের দেওয়া অভিযোগই হুবহু চার্জশিটে তুলে ধরা হয়েছে। এ চার্জশিট দেখে পরিবারের সবাই হতাশ।

গত বছরের অক্টোবরে চঞ্চল হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ৫জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। ওই ৫জন হলেন- চঞ্চলের বন্ধু মেহেদি হাসান রুহিত, মীম প্রধান, রাকিব, রাশেদ, শফিক।

২০১২ সালের ১৬ জুলাই গভীর রাতে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন চঞ্চল। ওই রাত ৩টায় চঞ্চল তার বন্ধু মীম প্রধান, রাকিব ও শফিক মিলে নগরীর ২নং রেলগেট এলাকার একটি দোকানে চা-নাশতা খেয়েছিলেন। নিহত চঞ্চলের মোবাইল ফোনে রাত ৩টা ৯ মিনিটে সর্বশেষ কল করেছিলেন মীম প্রধানের আত্মীয় মেহেদী হাসান রুহিত। তিনি মীমের সঙ্গে তাকে (চঞ্চল) দেখা করতে বলেন। এরপর থেকে চঞ্চল নিখোঁজ হন। পরে ১৮ জুলাই বন্দর উপজেলার শান্তিনগর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে চঞ্চলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ এবং বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দাফন করা হয়। পরদিন ১৯ জুলাই ছবি ও পরিধেয় কাপড় দেখে উদ্ধার করা লাশটি চঞ্চলের বলে শনাক্ত করেন নিহতের বড় ভাই জোবায়ের ইসলাম পমেল।

জানা গেছে, নিহত দিদারুল আলম চঞ্চল সরকারি তোলারাম কলেজের বাংলা বিভাগে অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে চঞ্চল একজন সফল নাট্যকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ ঐকিক থিয়েটারের সক্রিয় সদস্যও ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ‘শত মানুষের হাজার স্বপ্ন’, ‘হাড় তরঙ্গ’ এবং ‘বক্তাবলী’ নামে তিনটি নাটক রচনা করেন। নিখোঁজ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে ২০১২ সালের ১৩ জুলাই, মুক্তিযুদ্ধের ৪০ বছর উপলক্ষ্যে ঢাকা শিল্পকলা একাডেমিতে যে ১০০টি মুক্তিযুদ্ধের নাটক মঞ্চস্থ হয়, তার মধ্যে চঞ্চলের রচিত ‘বক্তাবলী’ নাটকটিও মঞ্চস্থ হয়েছিল। ওই নাটকের জন্য তাকে শ্রেষ্ঠ নাট্যকার হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।
এপিএইচ/