এটিএম কার্ড জালিয়াতি: জড়িত সন্দেহে এক বিদেশি আটক

এটিএম বুথে জালিয়াতিরাজধানীতে এটিএম বুথ থেকে জালিয়াতি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ।আটক ব্যক্তির  নাম এখনও জানা যায়নি। তবে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, তিনি পূর্ব ইউরোপের একটি দেশের নাগরিক। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার তাকে আটক করা হয় বলে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে আটক ব্যক্তি জালিয়াতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি। তাই তাকে এখনও ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়নি। বনানীর একটি বুথের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ দেখে তাকে আটক করা হয়।
সূত্রটি জানায়, তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হতে চায় গোয়েন্দারা। সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির কাছে একাধিক দেশের পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। তার ভিসা যাচাই করা হচ্ছে। এর আগেও ওই ব্যক্তি বিদেশি এটিএম কার্ড জালিয়াতিতে জড়িত ছিলেন, এমন তথ্যও দিয়েছে সূত্রটি।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে বিদেশি চক্রের পাশাপাশি দেশি এটিএম কার্ড জালিয়াত চক্রের  বিষয়েও অনুসন্ধান অব্যাহত আছে। নজরদারিতে রাখা হয়েছে কয়েকজনকে। যাদের যেকোনও সময় গ্রেফতার করা হতে পারে। তাদের মোবাইলের কললিস্ট ও কথোপকথন পরীক্ষা করে দেখছেন গোয়েন্দারা।

বিদেশি নাগরিককে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির কোনও কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।  

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডিবি মামলাটি তদন্ত করছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।

প্রসঙ্গত, এটিএম জালিয়াতি করে বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নেয় একটি চক্র। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ইউসিবি কর্তৃপক্ষ বনানী থানায় মামলা করে এজাহারের সঙ্গে সিসিটিভির ভিডিও জমা দেয়। ভিডিও ফুটেজে এক বিদেশিকে এটিএম কার্ড ব্যবহার করে টাকা ওঠাতে দেখা যায়। ওই বিদেশি যাতে বাংলাদেশ থেকে পালাতে না পারেন সেজন্য বিমান, নৌ ও স্থলবন্দরগুলোতে নজরদারির অনুরোধ করা হয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে। ঠিক একইভাবে ইউসিবি, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) ও সিটি ব্যাংকের ছয়টি বুথে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসিয়ে তথ্য চুরির প্রমাণ পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই যন্ত্র বসানো অবস্থায় বুথগুলোতে ১হাজার ২০০ কার্ডের লেনদেন হয়েছে। আর এ পর্যন্ত ৪০টি কার্ড ‘ক্লোন’ করে গ্রাহকের প্রায় ২০ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার তথ্য গোয়েন্দারা পেয়েছেন বলে তথ্য এসেছে গণমাধ্যমে।

/এআরআর/এএ/টিএন/