ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী ও লিফট অপারেটরকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
রবিবার সকালে বিআরটিএর পূর্ব পাশের ৩ নম্বর ন্যাম গার্ডেন ভবনের পাশ থেকে জনিয়া (১৫) নামে ওই কিশোরী গৃহপরিচারিকার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কাফরুল থানার এসআই কামরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও পরিচালক মো. আহসান হাবীবের বাসায় নিহত জনিয়ার মা ফুলবানু কাজ করতেন। তিন চারদিন ধরে মায়ের পরিবর্তে ন্যাম গার্ডেনের ৪০৩ নম্বর ফ্লাটে কাজ করছিল জনিয়া।
এসআই কামরুজ্জামান তার সুরহতাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। সুরহতাল প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন, জনিয়ার ডান হাত থেঁতলানো ও রক্তাক্ত, দুই পায়ের হাঁটুতে কালো দাগ, মুখে ওড়না বাঁধা রক্তাক্ত, নাক রক্তাক্ত এবং স্তনের নিচে কালো দাগ পাওয়া গেছে।
তিনি লাশের সুরহতাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য রবিবার দুপুরের পর ঢামেক হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসেন।
নিহত জনিয়ার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ। তার বাবার নাম ওসমান গনি। পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে দ্বিতীয়। বাবা রিকশাচালক। মা বাসাবাড়িতে কাজ করেন। তারা রাজধানীর কাফরুল থানার উত্তর ইব্রাহীমপুরের ৪৭৬/বি নম্বর বাসায় তারা ভাড়া থাকেন।
নিহতের চাচাতো ভাই সোহেল জানান, তিনি কিছুই জানেন না। খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তারাও বুঝতে পারছেন না।
এসআই কামরুজ্জামান বলেন, নিহত জনিয়ার স্যান্ডেল ছাদে পাওয়া গেছে। লাশের ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ছাদের ওপরে লিফট অপারেটরের একটি কক্ষ রয়েছে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ও বাসার সুপারভাইজার এমদাদকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও পরিচালক আহসান হাবীব, তার স্ত্রী এবং ছেলে রুম্মন (২৬) ওই বাসায় থাকেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
আহসান হাবীবের বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, তার মা কাজ করবেন না বলে কিছুদিন আগে তাদের পাওনা সব দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ সকালে এক নারীকে নিয়ে কাজের জন্য এসেছিল জনিয়া। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে পরে জানাবেন বলে জানিয়ে দেন।
/এআরআর/এজে/