পুলিশ ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মানসিক অসুস্থতা থেকেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। এখন তাই তার রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা চলছে। তার অসুস্থতা কোন পর্যায়ের তাও নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজন হলে তার চিকিৎসায় বোর্ড গঠনও হতে পারে। এক্ষেত্রে দেশের শীর্ষ মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেবে পুলিশ।
এই হত্যামামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বাস্তব চিত্রটি তুলে আনতে চাই। এটা কোনও স্বাভাবিক ঘটনা না। এর পেছনের রহস্য বের করতে পারলে আমাদের সমাজ জীবনের একটি বড় শিক্ষা হবে। একজন মা কেন মানসিক রোগী হলেন? কেন তার সন্তানকে হত্যা করলেন? এসব কারণ জানতে হবে। এরকম আরও অনেক রোগী হয়তো আছেন। তাদের কীভাবে পরিবার চিকিৎসা করাবেন? এই ঘটনাটি যদি আমরা সঠিকভাবে তদন্ত করে বের করতে পারি তাহলে আরও অনেক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। তা না হলে বন্দি ও প্রতিযোগিতার নগর জীবনে আরও অনেক ঘটনাই ঘটবে।’
ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘জেসমিন মালেক এখনও ট্রমায় আছেন। তিনি না কাঁদছেন, না হাসছেন, কোনও কিছুই শেয়ার করছেন না। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা তার সঙ্গে কথা বলছেন।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার লাখ লাখ মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়, আর এটা তাদের প্রিয়জনদের জীবনের ওপর প্রভাব ফেলে। প্রতি চার জনের মধ্যে এক জন তাদের জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এর দ্বারা আক্রান্ত হবে। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা এই অসুস্থতার পেছনে একটা বড় কারণ হল অবসাদ। স্কিৎজোফ্রেনিয়া এবং বাইপোলার ডিসঅর্ডার হলো সবচেয়ে দুঃসহ ও ক্ষতিকর মানসিক রোগের মধ্যে অন্যতম। এই নারী প্রথমটিতে আক্রান্ত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও আমরা এখনও নিশ্চিত না। তিনি এই রোগ গোপন করে রেখেছিলেন, উপেক্ষা করেছেন এবং এটাকে খারাপ চোখে দেখেছেন। তাই শেয়ার করেননি।
গত সোমবার বিকালে রামপুরার বনশ্রীর বি-ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের ৯ নম্বর বাসার পঞ্চম তলায় শিশু নুসরাত ও আলভী নিহত হয়। মৃত্যুর পর তাদের মা জেসমিন ও খালা মিলা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, খাবারে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তে চিকিৎসকরা জানান, তাদের হত্যা করা হয়েছে। এরপর শিশু দুটির পরিবারের সদস্য, শিক্ষক, বাসার নিরাপত্তারক্ষী ও চাইনিজ রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার, বাবুর্চিসহ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বুধবার লাশ দাফনের পর গ্রামের বাড়ি থেকে দুই সন্তানের বাবা-মাকে ঢাকায় নিয়ে আসে র্যাব। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সন্তানদের হত্যার কথা স্বীকার করেন মা জেসমিন, এমনটি দাবি করে র্যাব। এরপর সন্তানদের বাবা আমান উল্লাহ বাদী হয়ে রামপুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সন্তানদের মাকেই একমাত্র আসামি করা হয়। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান শুক্রবার আসামি জেসমিনের দশদিনের রিমান্ড চান। আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন।
এদিকে রবিবার মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শুরু করেনি। মঙ্গলবার মামলাটি আদালতের অনুমতি নিয়ে ডিবিতে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে রামপুরা থানার পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে এনেছিলেন। মঙ্গলবার তার পাঁচদিনের রিমান্ড শেষ হবে। ওইদিন আদালেতের অনুমতি নিয়ে মামলাটি ডিবির তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
/এআরআর/এজে/