রাজধানীর হাতিরঝিল থানার রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশকে গুলির ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে হাতিরঝিল থানা-পুলিশ। তার নাম মো. ইমাম হোসেন। শনিবার (১৩ জুন) বিকালে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইমামকে গ্রেফতার করা হয়।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।
পুলিশের দাবি, কাইল্লা পলাশকে গুলি করার পর শুটারকে মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থল থেকে পালাতে সহায়তা করে ইমাম।
ওসি বলেন, ইমামকে গ্রেফতারের পর আজ আদালতে পাঠানো হয়। ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরে রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গুলির পর শুটারকে পালাতে সহায়তার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ইমাম কাইল্লা পলাশকে গুলি করা শুটারকে মোটরসাইকেলে করে পালাতে সহায়তা করেছে। গুলির পর যে মোটরসাইকেলে করে শুটার পালিয়েছে, সেটির চালক ছিল ইমাম।
তিনি জানান, ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের পর রাজধানীর রামপুরা টিভি সেন্টার সংলগ্ন এলাকায় নিজ বাসার কাছে গুলিবিদ্ধ হন কাইল্লা পলাশ। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
পুলিশের পুরোনো রেকর্ড অনুযায়ী, ২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কাইল্লা পলাশ। ওই মামলায় বিচারিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও পরে উচ্চ আদালত সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রায় এক মাস আগে জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান কাইল্লা পলাশ। তার বাবার নাম ইউনুস খান। তাদের বাড়ি রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা এলাকায়।
পুলিশ বলছে, কাইল্লা পলাশকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।