আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় অভিনেতা আলভী রিমান্ডে

স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা মামলায় ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে জাহের আলভীকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ এ তথ্য জানান।

গত ২১ জুন ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল মালেক আসামিকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওইদিন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য বুধবার দিন নির্ধারণ করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ইকরাকে উদ্দেশ্যে করে আলভী অপমান ও বিভিন্ন ধরনের মানসিক অত্যাচারসহ উস্কানিমূলক কথাবার্তা তার ফেসবুকে পোস্ট করতেন। আসামি বিবাহিত হওয়া সত্বেও গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অন্য নারীর সঙ্গে ছবি সংযুক্ত করে উস্কানিমূলক কথাবার্তা উল্লেখ করে তার ফেসবুকে পোস্ট দেন। মামলার মূল রহস্য উদঘাটনসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের জন্য ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।

এদিন, আসামিদের পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের প্রার্থনা করেন। এর বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষ। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ১৮ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন আলভী। শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুরের ডিওএইচএসে বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস নেওয়া অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওইদিন রাতেই মামলা করেন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান। দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।

আলভী ও ইকরা বিয়ে করেন ২০১০ সালে। তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এই মামলায় গত ৪ জুন জাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।