‘স্ত্রীর শোক পালন করবো, নাকি মামলা মেইনটেইন করবো জানি না’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট  
২৪ জুন ২০২৬, ১৮:২৫আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ১৮:২৫

‘‘আমি (আলভী) এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি, স্ত্রীর শোক পালন করবো নাকি মামলার প্রসিডিওর মেইনটেইন করবো জানি না। আমি কাজে (অভিনয়ে) ফেরার জন্য জামিন চাচ্ছি না। আমার সন্তান তার মাকে হারিয়ে, তাকে এখন সাপোর্ট দেওয়া দরকার।’’

বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে এভাবেই বলছিলেন অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া ওরফে জাহের আলভী।

স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে পল্লবী থানায় করা মামলায় অভিনেতা আলভীর রিমান্ড বিষয়ে শুনানি ছিলো আজ। রিমান্ড শুনানিকালে আদালতকে উদ্দেশ্য করে তিনি এসব কথা বলেন। 

তার আগে বেলা ২টা ১০ মিনিটে আলভীকে সিএমএম আদালতের হাজতখানা থেকে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী মধ্যে দিয়ে আদালতে নেওয়া হয়। বেলা আড়াইটায় এই মামলায় শুনানি শুরু হয়। 

প্রথমে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘‘ভিকটিম ইকরা জানতে পারেন আলভী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। বিভিন্ন সময়ে আসামি ভিকটিমকে বলে আসছেন, ‘তুই মরে যা, তুই মরলে আমার কিছুই যায় আসে না।’ ভিকটিমকে এরকম নানাভাবে মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন আসামি। সর্বশেষ সামাজিক যোগাযোগ মধ্যে একটি পরনারীর ছবি দিয়ে উস্কানিমূল পোস্ট দেন। ভিকটিম সেটা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেন।’’ 

রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘‘ইকবার মৃত্যুর পেছনে আসামির হাত থাকতে পারে। আলভীর কো-আর্টিস্ট তিথি নিজের হাতে মেহেদী দিয়ে লেখা আলভীর নামসহ ফেসবুক পোস্ট করেন। ভিকটিমের বিবাহ বার্ষিকীর দিনে আসামি অন্য মেয়ের সঙ্গে নেপাল ঘুরতে যান। কো-আর্টিস্টের হাতের এই লেখা ভিকটিম কখনও মেনে নিতে পারেননি৷ এ কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামির সর্বোচ্চ রিমান্ডের প্রার্থনা করছি।’’ 

এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুবায়েত ইসলাম রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানিতে বলেন, এই মামলায় কোনও মিডিয়া ট্রায়ালের ইন্ফুলুয়েন্স যেন না থাকে। এখানে তাকে (আলভীকে) শাস্তি দেওয়ার চেয়ে ন্যায় বিচার হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। 

আইনজীবী বলেন, তিনি দেশে এসে আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। 

তখন বিচারক আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘তাকে হাইকোর্টই আত্মসমর্পণ করতে বলেছেন।’’

আইনজীবী তখন আদালতকে ইকরার দেওয়া একটি  হলফনামা পরে শোনান। হলফনামায় ইকরাকে তার বাবা মা জোর করে আরেকটি বিয়ে দেন বলে লেখা আছে জানান এই আইনজীবী। এ সময় আলভীর পক্ষের আরেক আইনজীবী তাকে রিমান্ডে না নিয়ে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানান।

পরে আলভী আদালতকে কিছু বলতে চাওয়ার অনুমতি চান। আদালত অনুমতি দিলে তিনি বলেন, ‘‘আমি এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি যে, স্ত্রীর শোক পালন করবো নাকি মামলার প্রসিডিওর মেইনটেইন করবো জানি না। আমার এবং ইকরার রিলেশন খুব স্মুথ ছিল। সুইসাইড করার মত কিছু ঘটেনি। সংসার জীবনে ছোটোখাট মনোমালিন্য হয়। আমি মিডিয়ায় কাজ করি এখানে আমার শুভাকাঙ্খী আছে যেমন হেটার্সও আছে। তারা একটা এআই জেনারেটেড মেহেদী ওয়ালা ছবি দিয়ে মিথ্যা প্রচারণা করেছে। সেই মেহেদীওয়ালা আসল ছবিটা আমার আইনজীবীর কাছে আছে।’’ 

তিথির সঙ্গে নেপালে গিয়ে জন্মদিনের কেক কাটা প্রসঙ্গে আলভী  বলেন, ‘‘ আমি ৬টা নাটকের শুটিংয়ে প্রডাকশনের সঙ্গে নেপাল গেছি। এটা আমার কাজ। সেখানে শুধু তিথি না, প্রডাকশনের সবাই ছিল। আমি ন্যায় বিচার চাই।’’ 

দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে, গত ২১ জুন ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল মালেক আসামিকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওইদিন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ বুধবার দিন নির্ধারণ করা হয়। 

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ইকরাকে উদ্দেশ্য করে আলভী অপমান ও বিভিন্ন ধরনের মানসিক অত্যাচারসহ উস্কানিমূলক কথাবার্তা তার ফেসবুকে পোস্ট করতেন। আসামি বিবাহিত হওয়া সত্বেও গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অন্য নারীর সঙ্গে ছবি সংযুক্ত করে উস্কানিমূলক কথা লিখে ফেসবুকে পোস্ট দেন। মামলার মূল রহস্য উদঘাটনসহ অন্যান্য পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের জন্য ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন আলভী। শুনানি শেষে আলভীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। 

/এআই/এমএএল/
সম্পর্কিত
আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় অভিনেতা আলভী রিমান্ডে
হত্যাচেষ্টা মামলায় কণ্ঠশিল্পী মমতাজকে গ্রেফতার দেখালেন আদালত
নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সকালে গ্রেফতার, দুপুরে জামিন
সর্বশেষ খবর
মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয় থেকে দুই দালাল আটক, একমাসের কারাদণ্ড
মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয় থেকে দুই দালাল আটক, একমাসের কারাদণ্ড
মাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের সুযোগ দেবো না: মন্ত্রী
মাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের সুযোগ দেবো না: মন্ত্রী
বিশ্ব মোটরসাইকেল দিবসে রাজধানীতে ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের র‌্যালি
বিশ্ব মোটরসাইকেল দিবসে রাজধানীতে ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের র‌্যালি
কর আপিলেট ট্রাইব্যুনালে ঝুলে থাকা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ
কর আপিলেট ট্রাইব্যুনালে ঝুলে থাকা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ
সর্বাধিক পঠিত
স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা পোশাক কারখানা, একসঙ্গে বেকার ১৮০০ শ্রমিক
স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা পোশাক কারখানা, একসঙ্গে বেকার ১৮০০ শ্রমিক
মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা
মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা
মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বিষয়ে সতর্ক করলো বিআরটিএ
মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বিষয়ে সতর্ক করলো বিআরটিএ
‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ জানেন না অনেকেই, সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ
‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ জানেন না অনেকেই, সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ
১৩ বছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরলেন ওয়াহিদুজ্জামান
১৩ বছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরলেন ওয়াহিদুজ্জামান