কাঠালবাগানে দগ্ধ ৩: কয়েলের জন্য আগুন জ্বালাতেই ঘটে বিস্ফোরণ

রাজধানীর কলাবাগান থানাধীন কাঠালবাগানের বক্স কালভার্ট রোডের একটি বাসায় বিস্ফোরণে তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন—মো. জুয়েল (২০), তার চাচাতো ভাই মো. পারভেজ (২১) ও রানা মিয়া (১৯)।

বুধবার (১ জুলাই) রাতের ওই ঘটনায় দগ্ধরা বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের শরীর বেশি দগ্ধ হয়েছে। ফলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

এদিকে সেপটিক ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণের কথা বলা হলেও তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বক্স কালভার্ট রোডের একটি ফার্নিচারের দোকানের মালিক মো. ইমরান হোসেন রাজিব, যিনি ঘটনার পর দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন, তিনি দগ্ধদের প্রতিবেশীও।

রাজিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যে কক্ষে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেখানে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেছে। এর আগেও গ্যাসের গন্ধ নাকে ভেসে এসেছিল। ঘটনার পরপরই গিয়ে দেখি, সেপটিক ট্যাঙ্কের ঢাকনা খোলা। তবে সেটি বিস্ফোরিত হয়নি। সেখানে গ্যাসের গন্ধ পেয়েছি। দগ্ধরাও জানিয়েছে, তারা কয়েল জ্বালানোর জন্য গ্যাস লাইটার ব্যবহার করতেই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তারা দগ্ধ হয়। আমার ধারণা, জমে থাকা গ্যাস থেকেই এই বিস্ফোরণ হয়েছে।

তিনি বলেন, যে ভবনে এই ঘটনা ঘটেছে সেটি সাততলাবিশিষ্ট। ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে দগ্ধরা থাকতেন। কক্ষের যে স্থানে শোয়ার চৌকি ছিল, তার নিচে ছিল সেপটিক ট্যাঙ্ক। কক্ষে আগে থেকে জমে থাকা গ্যাসের কারণেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছে।

তিনি দাবি করেন, যে বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে, তার মালিক জনৈক আবুল বাশার। বাড়ির পানি যাওয়ার লাইন থেকেও গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যেত। এ বিষয়ে বাড়ির মালিককে বারবার বলার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো তিনি বলতেন, কেউ ভাড়া থাকতে না চাইলে না থাকুক। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা কলাবাগান থানা পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

দগ্ধদের বিষয়ে রাজিব বলেন, রানার শরীরের ৬৩ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। এছাড়া জুয়েলের শরীরের ৩০ শতাংশ এবং পারভেজের শরীরের ২১ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের অবস্থাও গুরুতর। সবাই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রাজিব জানান, দগ্ধরা খুবই গরিব। একটি কক্ষে তিনজন থাকতেন। তারা কাঠালবাগানের একটি ফার্নিচারের দোকানের কর্মচারী। তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায়। ঢাকায় তাদের কোনো স্বজন নেই। ঘটনার পর থেকে আমিসহ এলাকার আরও কয়েকজন তাদের দেখাশোনা করছি। চিকিৎসার খরচও আমরা দিচ্ছি। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা তোলা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বুধবার (১ জুলাই) রাতে কাঠালবাগানের বক্স কালভার্ট রোডের ৪৪/এ নম্বরের সাততলা ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন দগ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।