বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় বিএনপি নেতা আবুল বাশার (৪৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ও শুক্রবার (৩ জুলাই) ঢাকা, ময়মনসিংহ ও জামালপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর ও আদাবর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. জুয়েল রানা জানান, বৃহস্পতিবার আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকা থেকে শোয়েব, আরমান ও নয়ন নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহ থেকে ডিবি তেজগাঁও বিভাগ নিরব, রিপন, মজনু ও মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে। তারা ঘটনার পর গ্রামের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন।
তিনি বলেন, গ্রেফতারদের মধ্যে রিপন সরাসরি ছুরিকাঘাত করে। তাকে গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ দেখা এবং বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে নবোদয় কাঁচাবাজারসংলগ্ন ডি-ব্লকের ১ নম্বর সড়কে অনুষ্ঠিত একটি সালিশ বৈঠকের শেষ পর্যায়ে আবার সংঘর্ষ বাধে। এতে বাদশা ও সাদ্দাম ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে বাদশার মৃত্যু হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রেফতারদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর তারা পালিয়ে ময়মনসিংহে গ্রামের বাড়িতে চলে যান।
ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গ্রেফতার চারজনের মধ্যে পিতা-পুত্রও রয়েছেন। তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং সিসিটিভি ফুটেজে তাদের দেখা গেছে।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আদাবর থানার নবোদয় হাউজিংয়ের চার রাস্তার মোড় এলাকায় সালিশ বৈঠকের সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা ও সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন গুরুতর আহত হন। তাদের প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাদশার মৃত্যু হয়। আহত সাদ্দাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে র্যাব-২ জানিয়েছে, বাদশা হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত মো. সুমনকে জামালপুর এবং হত্যাকাণ্ডের হুকুমদাতা মো. শহীদকে (৫৯) ময়মনসিংহ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।