দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউল, ফকির ও সন্ন্যাসীদের ওপর হামলা এবং জোর করে চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এসব ঘটনায় তাদের সাংবিধানিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
রবিবার (৫ জুলাই) রিটকারীদের আইনজীবীরা এ তথ্য জানান।
জানা গেছে, গত ২১ জুন এ-সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদেশে স্বরাষ্ট্র, ধর্ম ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
রিটে চারজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীকে বিবাদী করা হয়েছে। তারা হলেন—ফেসবুক পেজ ‘মাহবুব ক্রিয়েশনস ফোর’ ও ইউটিউব চ্যানেল ‘স্ট্রিট হিউম্যানিটি অব বাংলাদেশ’-এর অ্যাডমিন মো. মাহবুব সরকার, ‘হিউম্যানিটি ফার্স্ট বিডি’-এর অ্যাডমিন মুফতি সোহরাব হোসেন আশরাফী, যুগ্ম অ্যাডমিন মোহাম্মদ আফসার আহমেদ এবং ‘কেএম রিয়াজ’ ইউটিউব চ্যানেলের অ্যাডমিন কে এম রিয়াজ। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ ও মো. জাহিদুল ইসলাম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জাকির হোসেন, মো. হুমায়ুন কবির সিদ্দিকী, মো. তানভীর প্রধান ও শারমিন হামিদ।
এর আগে ‘নারী পক্ষ’-এর প্রতিষ্ঠাতা শিরীন পারভীন হক, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক আমেনা মুহসিন, সুরেশ্বর দরবার শরিফের পীর হাসান শাহ সুরেশ্বরী দিপু নূরী, অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, লেখক আলতাফ পারভেজ, শিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান, চিত্রশিল্পী নজীর আমিন চৌধুরী জয়, সাংবাদিক মাহাথির মুহাম্মদসহ বাউল ও মাজার-সংশ্লিষ্ট ২৯ জনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া রিটটি দায়ের করেন।