সুব্রত বাইনের সহযোগী বাপ্পি-রিজনের ৭ দিনের রিমান্ড

রাজধানীর মতিঝিলে এক ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও হত্যাচেষ্টার মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত তানিম রেজা বাপ্পি (৪৬) ও মো. রাকিবুল ইসলাম ভূইয়া রিজনকে (৩৫) সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলম এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার এসআই মনিনুর রহমান তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদী মো. ইসমাইল হোসেন মতিঝিলের ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবসংলগ্ন কোরবানির অস্থায়ী গরুর হাটের ইজারাদার। গত ১৫ মে রাত ১১টা ৩২ মিনিটে বিদেশি দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তাকে ফোন করে গরুর হাটে তাদের মনোনীত ব্যক্তিকে অংশীদার করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না করলে তাকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

এর চার দিন পর, ১৯ মে ভোরে মতিঝিলের ৯৯ দক্ষিণ কমলাপুরে অবস্থিত তার প্রতিষ্ঠান ‘এআই কার্গো সার্ভিস’ লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এতে অফিসের জানালার কাচসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে গুলির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হন বাদী।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, গত ১৭ জুলাই দিলকুশা এলাকায় মারামারির ঘটনায় আটক তানিম রেজা বাপ্পির ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের সঙ্গে চাঁদা দাবির জন্য ব্যবহৃত নম্বরের মিল পাওয়া যায়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একটি রেডমি মোবাইল ফোন, একটি অপ্পো মোবাইল ফোন এবং একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।

বাপ্পির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর কমলাপুর এলাকা থেকে তার সহযোগী রাকিবুল ইসলাম ভূইয়া রিজনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে ঘটনার সময় রিজনকে অস্ত্রধারীদের সঙ্গে চলাফেরা করতে দেখা গেছে বলে দাবি পুলিশের। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলেও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পুলিশের দাবি, দুই আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পূর্ব কমলাপুরে বাপ্পির অফিসে অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, সাত রাউন্ড গুলি, একটি চাইনিজ কুড়াল এবং একটি ইলেকট্রিক শক গান উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা হয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং পুরো চক্র সম্পর্কে তথ্য উদঘাটনের জন্য আসামিদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

পুলিশ সূত্র জানায়, তানিম রেজা বাপ্পির বিরুদ্ধে রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁওসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা চেষ্টা, মাদকসহ অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর কমলাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ বাপ্পি ও রিজনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের মতিঝিল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তানিম রেজা বাপ্পি শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং তার অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত।