রাজধানীতে ময়লার ব্যবসার বিরোধে গুলি, বান্দরবানের রিসোর্ট থেকে গ্রেফতার ৩

রাজধানী ঢাকার বারিধারা এলাকায় ময়লার ডিপোর ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে গুলির ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. হেলাল মিয়া (৪০), সৈয়দ এনামুল হক লাবু (৪৬) ও মোশারফ হোসেন (৩৩)। তারা এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার পলাতক আসামি।

সোমবার (২০ জুলাই) র‌্যাব-১-এর একটি দল বান্দরবান সদর উপজেলার আর্মিপাড়া এলাকার স্কাইব্লু রিসোর্ট থেকে তাদের গ্রেফতার করে। র‌্যাব জানিয়েছে, অভিযুক্তরা সেখানে আত্মগোপনে ছিলেন।

র‌্যাব জানায়, রবিবার (১৯ জুলাই) রাতে ব্যবসায়ী ও মামলার বাদী শহীদ মিয়া (৪৫) কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে পিকআপে করে ময়লা নিয়ে বারিধারা কে-ব্লকের ডিপোতে যান। এ সময় গ্রেফতার তিনজনসহ আরও কয়েকজন চারটি মোটরসাইকেলে সেখানে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

ওই সময় শহীদ মিয়ার সঙ্গে থাকা তার ছোট ভাই তৌহিদ প্রাণ বাঁচাতে ময়লার গাড়ির নিচে লুকানোর চেষ্টা করেন। তবে হামলাকারীদের ছোড়া একটি গুলি তার হাঁটুর নিচে পায়ে বিদ্ধ হয়।

র‌্যাবের ভাষ্য, ঘটনাস্থল ছাড়ার আগে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে বলে, ময়লার ডিপোতে কাজ করলে তোদের প্রাণে মেরে ফেলব। এ সময় সেখানে থাকা আরও কয়েকজন শ্রমিককে কিল-ঘুষি ও লাথিও মারা হয়।

পরে কামাল মিয়া (৫২) ও কামরুল (১৫) নামে দুই সহকর্মী আহত তৌহিদকে প্রথমে ভাটারার একটি হাসপাতালে নেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সেখান থেকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়।

তৌহিদ শরীফ উদ্দিন জুয়েলের অধীনে মাসিক বেতনে ময়লা পরিবহনের কাজ করতেন।

ঘটনার পর তৌহিদের বড় ভাই শহীদ মিয়া বাদী হয়ে গুলশান থানায় বরকতুল্লাহ শুভ (২২), হেলাল, লাবু, মোশারফসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

র‌্যাব-১-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (অপস ও মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম বলেন, মামলার পর আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং র‌্যাব-১৫-এর সহায়তায় বান্দরবান থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।