চট্টগ্রামের জাহাজভাঙা শিল্পের ব্যবসায়ী ও ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে শেল কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় আট হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় নথি এখনও হাতে পায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ১১ দিন হলেও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস চিঠির জবাব না দেওয়ায় আগামী সপ্তাহে আবার তাগিদপত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
অনুসন্ধান দলের প্রধান ও দুদকের উপপরিচালক মো. মুস্তাফিজুর রহমান মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখনও চিঠির জবাব কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পাইনি। আগামী সপ্তাহে আবার তাগিদপত্র দেওয়া হবে।’
দুদক সূত্র জানায়, গত ১ জুলাই চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কাছে শওকত আলীর মালিকানাধীন এসএন করপোরেশনের জাহাজ আমদানি ও সংশ্লিষ্ট এলসির নথি চাওয়া হয়। ১০ জুলাইয়ের মধ্যে তথ্য পাঠাতে বলা হলেও তা এখনও পাওয়া যায়নি।
দুদকের কর্মকর্তারা জানান, অনুসন্ধানকারীরা আইনানুগভাবে তথ্য সংগ্রহ করছেন। তবে কমিশন না থাকায় সংস্থাটির কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ১৫ নভেম্বর শওকত আলী, তার স্ত্রী তাসমিয়া আম্বারীন, মেয়ে জারা নামরীন ও ছেলে জারান আলী চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব, জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন এবং পাসপোর্টসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ইস্টার্ন ব্যাংকের কাছেও তাদের আর্থিক লেনদেনের বিবরণ চেয়েছে দুদক।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে শওকত আলী, তার পরিবারের সদস্য এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ২৮টি ব্যাংকে ১৮৭টি হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। গত বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত এসব হিসাবে ৮ হাজার ৪০৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা জমা এবং ৮ হাজার ২৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য মিলেছে। হিসাবগুলোতে স্থিতি ছিল ১৭৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে একই ঠিকানায় নিবন্ধিত রেড রুবি গ্রুপ, ট্যালেন্ট মাইল ও কলাম্বিয়া সিস নামের তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জাহাজ কেনার জন্য ২০১৫, ২০২০ ও ২০২৩ সালে তিনটি এলসি খোলে এসএন করপোরেশন। এলসিগুলোর মূল্য ছিল যথাক্রমে ৭৪ লাখ ৯৬ হাজার, ৪ লাখ ৬৪ হাজার এবং ২১ লাখ ৪১ হাজার মার্কিন ডলার। অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে দুদক সূত্রের দাবি।
এছাড়া, এসএন করপোরেশন ২০১২ সাল থেকে পুরোনো জাহাজ আমদানিতে ১৪১টি এলসি খুলেছে। এসব এলসির অধিকাংশের যথার্থতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত হিসাবে ব্যবসায়িক লেনদেন, পরিবারের সদস্যদের হিসাবে কোম্পানির অর্থ জমা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ এবং অনুমোদনের আগে ঋণসুবিধা দেওয়ার বিষয়ও যাচাই করছে দুদক।
অনুসন্ধানসংশ্লিষ্টরা জানান, প্রয়োজনীয় নথি হাতে পাওয়ার পর অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পাশাপাশি সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যে কথিত সম্পদ ও বিনিয়োগের তথ্য সংগ্রহে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানোর বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।