সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় সাংবাদিক শফিক কারাগারে

রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা সাইবার সুরক্ষা আইনের এক মামলায় সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিককে (৩৮) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

বুধবার (২২ জুলাই) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত এই আদেশ দেন।  

এর আগে গত ২১ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজার এলাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের পাশ থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর আজ বুধবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জিয়াউল হক।  

আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামি সহযোগীদের সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে জামিন দেওয়া হলে পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় মামলাটি সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্ত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং আসামির নাম ঠিকানা ও পিসি-পিআর যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেল হাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।   

প্রকাশ থাকে যে, মামলাটির তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে ব্যাপক ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদসহ ঘটনায় ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইস ও ঘটনায় জড়িত অপরাপর আসামির শনাক্তসহ গ্রেফতারের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনার জন্য আসামিকে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হবে।  

এদিকে শফিকের পক্ষের আইনজীবীরা তার জামিন চেয়ে শুনানি করে, রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে শফিকের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। শুনানিকালে তাকে আদালতের এজলাসে ওঠানো হয়নি।  

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। 

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ারফাইটার আন্দাম হোসেন (২৭) বাদী হয়ে হাফিজুর রহমান শফিক (৩৮), মো. ফজলুল হক (৩৫), মো. লিটন মিয়া (৪৭) ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলাটি করেন। 

অভিযোগে বলা হয়, সাংবাদিক পরিচয়ে হাফিজুর রহমান শফিক বিভিন্ন সময় বাদীর কাছে টাকা দাবি করতেন। টাকা না দিলে তাকে নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন। পরে তার ফেসবুক পেজ থেকে বাদীকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রচার করা হয় এবং আবারও টাকা দাবি করা হয়। এছাড়া অপর দুই আসামি ওই ভিডিও নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে অশালীন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।  

এতে বাদীর ব্যক্তিগত সুনাম এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। আসামিরা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন বলে অভিযোগে আরও বলা হয়।