সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক আদালতে নিজেকে অসুস্থ দাবি করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আধা ঘণ্টা সাক্ষাতের সুযোগ চেয়েছেন। এছাড়া কারাগারে আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত বিশেষ সাক্ষাতেরও অনুমতি চান তিনি।
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় মো. হোসেন নামে এক মালবাহী ট্রাকের চালককে হত্যার মামলায় চার্জগঠন বিষয়ে শুনানিতে রবিবার (২৬ জুলাই) আদালতের অনুমতি নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পলক বলেন, ‘আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। আমার ঘাড়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং এমআরআই রিপোর্টে দুটি হাড় স্থানচ্যুত হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।’ এ কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি মাথায় হেলমেট পরতে পারছেন না বলেও আদালতকে জানান।
পলক আরও জানান, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ৯৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে তিনি ৮৯ দিন রিমান্ডে ছিলেন। তিনটি মামলার বিচার চলছে এবং আরও কয়েকটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে পলক আদালতের কাছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অন্তত আধা ঘণ্টা সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানান। পাশাপাশি কারাগারে প্রতি দুই সপ্তাহে দুই দিন এবং প্রতি দিন তিন ঘণ্টা করে আইনজীবীদের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ারও আবেদন করেন। তবে আদালত তৎক্ষাণীক কোনও আদেশ দেননি।
এ বিষয়ে পলকের পক্ষের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম জানান, কারাবিধি অনুযায়ী আসামি ১৫ দিন পর পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আধা ঘণ্টা করে সাক্ষাতের অনুমতি পান। এ কারণে মামলা সংক্রান্ত আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় চেয়ে দুই সপ্তাহে দুই দিন এবং প্রতি দিন তিন ঘণ্টা করে আইনজীবীদের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাতের অনুমতির প্রার্থনা করেন পলক। তবে আদালত এ বিষয়ে কোনও আদেশ দেননি।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন মো. হোসেন। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। সেদিন তিনি গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফিরছিলেন। চাঁদ উদ্যান এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহত ব্যক্তির মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকরামুজ্জামান আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।