ছিনতাইয়ের পর ব্যবসায়ীকে হত্যা: দুই আসামির যাবজ্জীবন

১৫ বছর আগে ঢাকার গেন্ডারিয়া থানা এলাকায় ছিনতাইয়ের পর সবজি ব্যবসায়ীকে হত্যার মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ছিনতাইয়ের দায়ে তাদের আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডিতরা হলো, বাবু ওরফে বাঘা বাবু ও মামুন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল ইসলাম এ রায় দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার বলেন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর পাঁচ বছরের সাজার সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাদের আরও তিন মাস কারাভোগ করতে হবে।

আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির কথা জানিয়েছেন প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, চুন্নু মিয়া শ্যামবাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাঁচামাল কেনার জন্য যাত্রাবাড়ী আড়তে যান। সেখান থেকে এক বস্তা বেগুন কিনে রিকশায় শ্যামবাজারের উদ্দেশ্য রওনা দেন। ভোর ৫টার দিকে গেন্ডারিয়া থানার কাঠেরপুল এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা তার রিকশা আটকায়। তারা চুন্নু মিয়ার কাছে টাকা টাকা-পয়সা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। চুন্নু মিয়া আসামিদের চেনেন বলে জানান। এ কথা শোনার পর তাকে ছুরিকাঘাত করা করা হয়। পরে গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশ খবর পেয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় চুন্নু মিয়ার শ্যালক মো. জাহাঙ্গীর পরদিন গেন্ডারিয়া থানায় ছিনতাইয়ের পর খুনের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে সজিব, মামুন ও বাঘা বাবুকে অভিযুক্ত করে একই বছরের ১৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন গেন্ডারিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান। ওই বছরের ৭ অগাস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার চলাকালে আদালত ১৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। বিচার চলাকালে আসামি সজিব মারা যায়।

আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ আদালত থেকে দুই আসামির সাজার রায় এলো।