এক কোটি টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে মারধরের মামলায় গ্রেফতার হওয়া সেই টিকটকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. ভুলু মিয়া জামিন নামঞ্জুরের তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত ২৩ জুলাই গভীর রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় ফেসবুক লাইভে এসে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালানোর অভিযোগে তার স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে কোটি টাকা যৌতুক চেয়ে মারধরের অভিযোগ এনে আরেকটি মামলা করেন মোহনা। ওই মামলায় ২৪ জুলাই জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরদিন অর্থাৎ ২৫ জুলাই আত্মহত্যার চেষ্টায় মোহনার করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়। বুধবার এই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
আজ প্রিন্স মামুনের পক্ষে তার আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন জামিন চেয়ে শুনানি করেন। জামিনের বিরোধিতা করতে আদালতে উপস্থিত হন মোহনাও।
প্রিন্স মামুনের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন আদালতকে বলেন, “বাদী এবং আসামি সুইট কাপল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা এমনটা দেখেছি। কোটি টাকা যৌতুক চেয়ে মারধরের অভিযোগ বাদী মামলা করেছে। সেখানে তেমন কোনও মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নেই।”
তিনি বলেন, “এক কোটি টাকা যৌতুক কখন চায়? সামর্থ্য থাকলে। বললেই তো দেওয়া যায় না। ঘটনার একটা ভিডিও আছে। দেখেছি, বাদীও আসামিকে আহত করেছে। স্ত্রী স্বামীকে মারতেই পারে। মামলায় এসেছে লিখন নামে একজনের নাম। লিখন কে? ধর্ম ভাই। এর আগে তার বিরুদ্ধে লায়লাও মামলা করে। সেখানেও ধর্মভাই ছিল লিখন। মামুন যারেই বিয়ে করে, তারই ধর্ম ভাই লিখন হয়ে যায়। মোহনা আমার স্ত্রী। তাকে মানতে রাজি, নিতে রাজি। মার দিয়েছি, বিষয়টা এমন না। সেখানে মারামারি হয়েছে। দুই জন দুই জনকে মেরেছে। তার জামিন প্রার্থনা করছি।”
শুনানিকালে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন মোহনা।
বিচারক তার কাছে জানতে চান, প্রিন্স মামুন খুব বিখ্যাত? মোহনা বলেন, “বিখ্যাত।”
বিখ্যাত জেনে বিয়ে করেছেন? বিচারকের এমন প্রশ্নের জবাবে মোহনা বলেন, “৫ মাস আগে বিয়ে করেছি। এই ৫ মাসে আমাকে অনেক টর্চার করেছে।”
এরপর বাদীপক্ষের আইনজীবী সরকার সাব্বির হোসাইন (ফয়সাল) জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, “পাঁচ মাস আগে তারা বিয়ে করেছে। এরপর থেকে একাধিকবার টাকা ধার নিয়েছে। যৌতুক চেয়েছে, যৌতুকের জন্য মারধর করেছে।”
উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, “মডেল মোহনার পাঁচ মাস আগে প্রিন্স মামুনের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়ে আসছিল।
“প্রিন্স মামুন বিভিন্ন বয়স্ক মহিলাদের সঙ্গে পরকিয়ায় লিপ্ত এবং নেশায় আসক্ত। মোহনা তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করলেই মারধর করে। বিয়ের থেকেই আসামি দোকান দেওয়ার জন্য তার কাছে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন। তবে টাকা দিতে অস্বীকার করলে মোহনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে ভাটারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মোহনার বাসায় মামুন নেশাগ্রস্থ অবস্থায় এসে এক কোটি টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করেন।
“মোহনাকে তার বাবার বাড়ি থেকে এই টাকা এনে দিতে বলেন প্রিন্স মামুন। তবে মোহনা অস্বীকৃতি জানালে, তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মামুন উত্তেজিত হয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করাসহ এলোপাথারি কিল ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। মারধরের সময় তার গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এতে তার বাম চোখের নিচে রক্তাক্ত জখম হয় এবং ডান কানে নীলাফুলা জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিট করে আহত করা হয়।”

চেক ডিজঅনার মামলার মূল উদ্দেশ্য অর্থ আদায়, কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট 







