ঢাকার ধানমন্ডিতে চিকিৎসক নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ চারজনের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে ধীপ্রার আত্মীয় পরিচয়ে মামলার বাদী মশিউর রহমান শাহ বুধবার (২৯ জুলাই) এই আবেদন করেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাদীপক্ষের আইনজীবী ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফরহাদ হোসেন নিয়ন বলেন, ‘বাদী মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। এটি তার সিদ্ধান্তের বিষয়। মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করলে সাধারণত ধার্য তারিখে শুনানি হয়। আগামী ১৮ আগস্ট এ বিষয়ে শুনানি হবে।’
মামলা প্রত্যাহারের কারণ জানতে চাইলে মশিউর রহমান বলেন, ‘নো কমেন্টস। অপেক্ষা করেন। ১৮ আগস্ট জানতে পারবেন।’
গত ১৬ জুন অবহেলাজনিত মৃত্যু, নির্যাতন এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের মাধ্যমে আলামত গোপনের অভিযোগ এনে একই আদালতে ধীপ্রার স্বামী ডা. রহমত রশীদ, শ্বশুর বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা এবং স্যাটায়ার ওয়েবসাইট ‘ইয়ার্কি’র সম্পাদক শিমু নাসেরসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করা হয়। আদালত অভিযোগের বিষয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রেমের সম্পর্কের পর সহপাঠী ডা. রহমত রশীদকে বিয়ে করেন ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রা। তাদের দুই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই তিনি পারিবারিকভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। এর ফলে তিনি তীব্র বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন। সন্তান জন্মের পর পোস্ট-পার্টাম (প্রসবোত্তর) ডিপ্রেশনের পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও আসামিরা তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যায় অবহেলা করেন। এফসিপিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়। মৃত্যুর আগে ‘ফিমেল ডক্টরস ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে পারিবারিক নির্যাতনের বিষয়ে তিনি একটি পোস্ট করেছিলেন।
মামলার আর্জিতে বলা হয়, গত ২ জুন থেকে টানা তিন দিন ধীপ্রাকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় তাকে খাবার দেওয়া হয়নি এবং দুই বছর বয়সী সন্তানকেও দেখতে দেওয়া হয়নি। ৪ জুন খবর পেয়ে তার মা ধানমন্ডির বসতী গ্রীন আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে গিয়ে মেয়েকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তালা খুলে দিলে ধীপ্রা বের হয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘মা, আমি ভাত খাব।’
এরপরই তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে দ্রুত কাছের কোনো হাসপাতালে না নিয়ে বিলম্বের পর বারডেম হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এছাড়া ধীপ্রার মৃত্যুর পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রভাব খাটিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে দ্রুত দাফন সম্পন্ন করা হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।