রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করে ৩০ দিনের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম মিজান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
আইনজীবী জানান, মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করে ৩০ দিনের মধ্যে বুঝিয়ে দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা পালন করে একটি প্রতিবেদনও আদালতে দিতে বলা হয়েছে।
গত ০৩ এপ্রিল দৈনিক ইত্তেফাকে ‘হাসপাতালের ৩০ একর জমিই হাতছাড়া!’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে পপার্স লিগ্যাল এইড ফাউন্ডেশনের পক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি দেওয়া হয়।
জবাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে হাসপাতালের নামে ৩২ একর জমি বরাদ্দ আছে। ওই ৩২ একর জমির মধ্যে প্রায় ৮ একর জমির ওপর ৭ তলাবিশিষ্ট হাসপাতাল মূল ভবন, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার, মসজিদ, পানির পাম্প বিদ্যমান। অবশিষ্ট জমির ওপর অন্যান্য সরকারি স্থাপনা যেমন—বিএমআরসি ভবন, নিমিউ অ্যান্ড টিসি, টেমো ওয়ার্কসপ, পরিবার পরিকল্পনা পণ্যাগার আইপিএইচ স্কুল, ডিএমসিএইচ-এর স্টাফ কোয়ার্টার, জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতাল এবং কুষ্ঠ হাসপাতাল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার অবস্থিত। অবশিষ্ট খালি জমির ওপর বহিরাগত কর্তৃক কাঁচা-পাকা এ সব সরকারি স্থাপনাগুলোর অনুকূলে জমি বরাদ্দের কোনোপ্রকার নথিপত্র ওই দফতরে পাওয়া যায়নি। কিন্তু প্রতি বাংলা সনে ওই ৩২ একর জমির খাজনা/ভূমিকর পরিশোধের জন্য ভূমি অফিস হতে তাগিদপত্র ওই দফতরে দিয়েছেন। অবশিষ্ট খালি জমিতে অবৈধভাবে কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি, দোকানপাট, কাঁচা বাজার, বরফকল, রিকশা-অটোগ্যারেজসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে বহিরাগতরা। এগুলোর অধিকাংশ সরকারি জমি।
পরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে পপার্স লিগ্যাল এইড ফাউন্ডেশনের পক্ষে হাইকোর্টে রিট করা হয়।